দুর্গাপুজোর মাস থেকেই ১ লক্ষ পড়ুয়া পাবে আরও পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Mid Day Meal Photo-IANS

রাজ্য সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ সুনিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল পরিষেবায় রাজ্যজুড়ে ৪৫ হাজার ছাত্রছাত্রী উন্নতমানের সুষম আহার পাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই পরিষেবার আওতায় আরও ছাত্রছাত্রীকে যুক্ত করা হচ্ছে। তাতে মোট সংখ্যা ১ লক্ষ দাঁড়াবে। বৃহস্পতিবার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর মাস থেকেই ১ লক্ষ পড়ুয়াকে উন্নতমানের মিড-ডে মিলের আওতায় আনছে রাজ্য সরকার। সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য সুষম, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত মিড-ডে মিল পরিষেবার পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই পড়ুয়ারা হরেকরকম খাবার পাচ্ছে। তাতে তারা খুশিও। ডিমও মিলছে। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এখন ইসকনের সহযোগী সংস্থা ‘অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন’-এর সহায়তায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ধাপে ধাপে রাজ্যের প্রত্যেকটি সরকারি বিদ্যালয়ের সমস্ত পড়ুয়ার কাছেই এই স্বাস্থ্যসম্মত আহার পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রশাসন।’ পয়লা আগস্ট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীদের কেন্দ্রীভূত আধুনিক রান্নাঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিষেবার পরিধি বাড়িয়ে আরও ১৫ হাজার ছাত্রছাত্রীদের এটার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এবার সেটাই ১ লাখে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

স্কুলশিক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথম বাজেটেই কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, কলকাতায় এই ব্যবস্থা সফল হলে পরবর্তীকালে রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও সেটা চালু করা হতে পারে। কলকাতায় কিছু স্কুলে এই প্রকল্প শুরু করার পর অবশ্য খাবার পৌঁছতে দেরি হওয়া থেকে শুরু করে নিরামিষ খাবার নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। পরে রাজ্য সরকার পৃথকভাবে পড়ুয়াদের ডিম দিতে উদ্যোগী হয়। এখনও সেই ব্যবস্থা চালু আছে।


তাছাড়া বিদ্যালয় স্তরে ক্ষুধা এবং অপুষ্টি নির্মূল করে প্রত্যেকটি শিশুর সুস্থ শরীর ও প্রখর মেধার মজবুত ভিত গড়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে উল্লেখ করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে প্রত্যেক পড়ুয়ার জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশে উন্নতমানের সুষম এবং পুষ্টিকর আহার সুনিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’