পশ্চিমবঙ্গে চালু বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, ১০০ কোটির তহবিল-সহ বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

আগের কোনও প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই কথা একের পর এক রাখছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, যুবশক্তি, সারথি-সহ সব প্রকল্পগুলিই চালু রাখছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার রাজ্যে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নারীশিক্ষার স্বপ্নকে পাথেয় করে রাজ্যে নারী শিক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং সুরক্ষায় রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ‘কন্যারত্ন দিবস’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন শুভেন্দু, অর্থ যেন কোনওভাবেই ছাত্রীদের পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তাই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কন্যাদের আর্থিক সহায়তা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ ২,০০০ টাকা করার বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

১৪ আগস্ট ‘কন্যারত্ন’ দিবস পালনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বড় ঘোষণা, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বরাদ্দ ৪০০ কোটি টাকা স্কুলগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে। সেটা এখন থেকেই হাতে পাবেন ছাত্রীরা। পঠনপাঠন মাঝপথে বন্ধ হওয়া ঠেকাতে এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকার একাধিক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তাই রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘পালনা’ স্কিম এবং নারীদের জরুরি সহায়তায় ‘১৮১’ হেল্পলাইন সার্ভিস যুক্ত করা হলো। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের জাগরণে দেশের কন্যারা আগামী দিনে মা মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের ভূমিকা গ্রহণ করুক, এটাই আমরা চাইব।’

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ছাত্রীদের পড়াশোনা কার্যত বিনামূল্যে হতো। স্কুলছাত্রীরা বছরে ১০০০ টাকা করে বৃত্তি পেত। সেটা ‘কন্যাশ্রী ওয়ান বা কে ১’। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরেও কে ২ স্কলারশিপ ছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হয়েছে। এতদিন যেসব কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত ছিল সেটা এবার পাবেন সকলে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে ২০ লক্ষ ১৩ হাজারেরও বেশি ছাত্রী সরকারের অনুদান পেতে চলেছেন। বিদ্যালয়গুলির প্রাথমিক যাচাইয়ের পর প্রথম ধাপে ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর জন্য বরাদ্দ ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বাকি স্কুলগুলি থেকে নথিপত্র এলে তাদের টাকাও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা মাঝপথে যাতে থমকে না যায় সেটার জন্য এককালীন ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।


তাছাড়া মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য নয়া দিশা দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুলে ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রচলিত ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালু রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। আবার বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া কিংবা জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডাক্তারি-সহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষায় যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বামী বিবেকানন্দের নামে ১০০ কোটি টাকার একটি সম্পূর্ণ পৃথক তহবিল গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন ‘কন্যাশ্রী’ নামে যে প্রকল্প ছিল সেটা আমরা ‘কন্যারত্ন’ নাম দিলাম। আমাদের ছোট ছোট মেয়েরা সকলে রত্ন। আমি চাই, তারা আরও ভালভাবে পড়াশোনা করে সকলে মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্ব হোক। তার জন্য সরকার সবরকম সুবিধা দেবে। স্কুলপডুয়াদের সুবিধায় হেল্পলাইন নম্বর চালু হলো। নম্বরটি ১৮১।’