সামনেই দুর্গাপুজো। ইতিমধ্যেই শহর থেকে জেলায় মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিগ বাজেটের দুর্গাপুজোগুলি পথে নেমে পড়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার এই দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে মেলে রাজ্য সরকারের অনুদান। এবার পালাবদলের পশ্চিমবঙ্গে কত মিলবে? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সোমবার সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান ১০ হাজার টাকা কমিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অনুদানের চল শুরু করেছিলেন সেটার এদিন সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুদান কমলেও গোটা রাজ্যেই দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের জন্য কোনও মূল্য দিতে হবে না। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় রাজ্যের কোথাও ডিজে বাজানো যাবে না। অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে। পানশালাতেও মদ মিলবে না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে বড় দুর্গাপুজোর কমিটিগুলির কাছে একটি অনুরোধও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আর্জি, তারা যেন সাহায্য না নেয়। তবে যে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির এই টাকা ছাড়া পুজো করতে সমস্যা হবে তাদের অনুদান দেওয়া হবে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টা আমি দুর্গাপুজো কমিটিগুলির উপরেই ছাড়লাম। যাঁদের অনুদান দরকার তাঁরা স্থানীয়ভাবে আবেদন করবেন। যাঁদের দরকার নেই তাঁরা নেবেন না। আপনাদের উপরেই সবটা ছাড়লাম। যেসব দুর্গাপুজো কমিটি সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন জানাবেন তাঁদের ১ লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুৎ মাশুল বাবদ ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তা নিয়ে ডব্লিউবিএসিডিসিএল এবং সিইএসই-র সঙ্গে কথা বলা হয়ে গিয়েছে।’
অন্যদিকে ১০ হাজার টাকা অনুদান কমে গেলেও বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ ছাড় দিয়ে কার্যত পুষিয়ে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বলে মনে করছেন অনেকেই। এখানেই মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘দুর্গাপুজোর সময় রাজ্যের কোথাও ডিজে বাজানো যাবে না। অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে পানশালাতেও মদ মিলবে না। মহালয়ার দিনটির আগে কোনও দুর্গাপুজো মণ্ডপ বা প্রতিমার উদ্বোধন করা যাবে না। পাশাপাশি এই বছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘কার্নিভাল’ আয়োজন করা হবে না। তবে সরকারি উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী ‘শারদ সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।’
তাছাড়া মিলন মেলা প্রাঙ্গণে শহরের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। যেসব দুর্গাপুজো কমিটি এই অনুদান গ্রহণ করবে, তাদের নিয়ম মেনে কেমন করে আবেদন করতে হবে সেটার স্পষ্ট দিশা নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী যা করছিলেন সেটা ঠিক নয়। গতবার কত দিয়েছিলাম, এবার তা হলে এক লাখ। সকালে মাছের বাজারে এসব করি আমরা। ঠিক নয়। রাজ্যে ২৫ হাজার দিয়ে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজোর অনুদান দেওয়া। ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তাতে ভোটে লাভ হয়নি। অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে।’