মহালয়াতেই মেগা ইভেন্ট ইডেন গার্ডেন্সে, প্রধান আয়োজক রাজ্য সরকার, মোদীর থাকার সম্ভাবনা

CM Suvendu Adhikari-PM modi Photo-ANI

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথমবার দুর্গাপুজো হবে। এবার মায়ের আগমনীকে বিশেষ করে তুলতে তৎপর হয়ে উঠেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এবার মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে মেগা ইভেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে অংশ নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলে সূত্রের খবর। এখানে বিলাসবহুল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোকে বিশ্বের সামনে আরও বড় আকারে তুলে ধরাই হবে এই মেগা ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুতরাং দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে মহালয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গে আসার সম্ভাবনা তৈরি হলো।

নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন মেগা ইভেন্টটি করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দরপত্রের প্রক্রিয়াও এগিয়ে গিয়েছে। বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে মহালয়ার বিশেষ আবেগকে কাজে লাগিয়ে নাচ, গান, ঢাক, ধুনুচি নাচ, ছৌ এবং নানা জেলার লোকসংস্কৃতিকে একমঞ্চে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্যের নানা প্রান্তের শিল্পী এবং ঢাকিদের নিয়ে কয়েক হাজার মানুষের সমবেত অনুষ্ঠানের ভাবনাও রয়েছে।

এই মেগা ইভেন্টের জন্য ইডেন গার্ডেন্সকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি, বিপুল দর্শক ধারণক্ষমতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা। ইডেন গার্ডেন্স শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় যাতায়াত করা সহজ। যদিও মাঠ ব্যবহারের অনুমতি, ক্রিকেটের সূচি, নিরাপত্তা এবং সিএবি-র সঙ্গে সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলি এখনও বাকি আছে। সেগুলি কয়েকদিনের মধ্যে হয়ে যাবে বলে জানা গিয়েছে। যদি ইডেন গার্ডেন্স না মেলে তাহলে বিকল্প ভাবা হবে।


এই আয়োজনের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়টিও রয়েছে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিমা শিল্পী, মণ্ডপ নির্মাতা, আলোকশিল্পী, ঢাকি, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বিজ্ঞাপন এবং পর্যটন-সহ নানা ক্ষেত্রের মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। সেসব কথা ভেবেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক হিসাব অনুযায়ী, দুর্গাপুজোকে ঘিরে বাংলায় প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে। কলকাতার দুর্গাপুজোর ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে মহানগরীকে বিশ্বের অন্যতম পুজো-পর্যটনের ডেস্টিনেশন হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও আছে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত জল কতদূর গড়ায়।