উত্তর কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন। মৃতের তালিকায় রয়েছেন ১৪ মহিলা ও এক শিশু-সহ ৪ নাবালক। জখম কমপক্ষে ২৫। তাঁদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই চোরবাগান সার্বজনীনের ঘটনায় আহতদের দেখতে অ্যাপোলো হাসপাতালে গেলেন অমিত শাহ। তার আগে রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গেলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
পূর্ব পরিকল্পিত সূচি অনুযায়ী মহাসপ্তমীর রাতেই কলকাতায় আসেন অমিত শাহ। চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সমাজমাধ্যমে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। রবিবার দ্বিতীয় সপ্তমীতে দিনভর একাধিক কর্মসূচি ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে দেন তিনি। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন। কলকাতা পুলিশ মর্গে সকাল থেকে শুরু হয়েছে ময়নাতদন্ত। ১৯টি দেহের ময়নাতদন্ত চলছে। রবিবার ঘটনাস্থলে আসে ফরেনসিক এক্সপার্টরা। নমুনা নেন তাঁরা। গিরিশ পার্ক থানায় দায়ের হয়েছে মামলা। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর শুরু হয়েছে গ্রেপ্তারিও।
এই ঘটনার পর দ্বিতীয় সপ্তমীতে শহরের বেশ কয়েকটি পুজো মণ্ডপে যাওয়ার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। চোরবাগান বিপর্যয়ের পর তিনি এই সব কর্মসূচি বাতিল করেন। রবিবার সকালেই তিনি যান কালীঘাট মন্দিরে। শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে পুজো দেন তিনি। তারপর তিনি আহতদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে কথা বলেন আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তবে পদপিষ্টের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরের বিভিন্ন ভিড়প্রবণ পুজোগুলি রাতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তাছাড়া রবিবার নানা কর্মসূচিতে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেনজির বিপর্যয়ের জেরে তা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল রাজ্যের মন্ত্রীদের কর্মসূচিও। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই কলকাতা মেডিকেল কলেজে ছুটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রশাসনিক কর্তারা। ইমার্জেন্সির সামনে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই ঘটনা মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক। ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুজো কমিটি সব কিছু গুরুত্ব দিয়ে দেখলে এই বিপদ এড়ানো যেত। দুর্ঘটনার পিছনে আলো কম থাকাও একটি কারণ। প্রতিটি পুজো কমিটিকে মনে রাখতে হবে, থিমের থেকে মানুষের জীবনের দাম বেশি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে লিখব ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের জন্য কর্মরত কোনও বিচারপতিকে নিয়োগ করতে। এই নিয়ে সিট গঠন করা হবে, যেখানে এসটিএফ-সিআইডি সহ অন্যান্য সংস্থা থাকবে। গাফিলতিতে জড়িত থাকা কেউই রেহাই পাবেন না।’