আর্থিক লেনদেনের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসতেই জেলবন্দি ইন্দ্রনীল সেন। আপাতত তাঁকে জেলেই থাকতে হবে। আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল নগর দায়রা আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে আদালতে দাবি করে জেল হেফাজতের আবেদন জানায় রাজ্য।
আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা এবং বাকি ২৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ১০ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী পক্ষের।
রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। এই মুহূর্তে একাধিক সরকারি দপ্তরে পুজোর অবকাশকালীন ছুটি চলায় তদন্তের কাজেও কিছুটা সময় লাগছে। পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলেও আদালতে সওয়াল করেন অভিযোগকারীর আইনজীবী। বিএনএস-এর বিধান উল্লেখ করে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশি হেফাজত শেষ হওয়ার পরেও প্রয়োজন অনুসারে জেল হেফাজতের আবেদন করা যায়।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন আগেই খারিজ হয়েছিল। এদিনের শুনানিতে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে আবেদন জানান, তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাই জেলে তাঁকে প্রথম সারির বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হোক। জেলবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা যাতে তিনি পান, তা নিশ্চিত করা হোক।
আরও পড়ুন: ‘প্রশাসক কি পুরসভার মালিক?’ ওয়ার্ড ভাগে রাজ্যকে তুলোধোনা হাইকোর্টের
তদন্তের আর্থিক দিক নিয়েও এদিন আদালতে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ওঠে। তদন্তকারী পক্ষের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কোটি টাকার হিসাব সামনে এসেছে। তদন্ত এগোলে সেই অঙ্ক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।