মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, কালীপুজোকে ঘিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে

Clay Oil Lamp Photo-SNS

দুর্গাপুজো এই বছরের মতো মিটে গিয়েছে। এবার আসছে লক্ষ্মীপুজো। তারপর কালী পুজো। এই কালীপুজো-দীপাবলিকে ঘিরে শহরের একাধিক ভাটিতে কোমর বেঁধে শুরু হয়ে গিয়েছে মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ। দিনরাত এক করে চলছে মাটির প্রদীপ তৈরির কাজ। আলোর উৎসবে বেশিরভাগ বাড়িতে মানুষজন এই মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকেন। এটাই রীতি। তার উপর যেসব পুজোমণ্ডপে কালীপুজো হয় সেখানে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মাটির প্রদীপ। তাই মাটির প্রদীপের চাহিদাও বিপুল। এই চাহিদা মেটাতেই এখন জোরকদমে কাজ চলছে।

এই মাটির প্রদীপ কালীপুজোকে ঘিরে প্রয়োজন হয় প্রচুর পরিমাণে। মায়ের আরাধনায় দরকার হয় ১০৮ প্রদীপ। তাই অন্যান্য পুজোর চেয়ে কালীপুজোয় মাটির প্রদীপের চাহিনাও বেশি। কলকাতা শহরের নানা ভাটি সূত্রে খবর, এই প্রদীপ তৈরির জন্য বেশিরভাগ মাটি এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিং এলাকা থেকে। টন টন এই মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মাটির মঙ্গল প্রদীপ। লক্ষ্মীপুজোয় খুব একটা লাগে না মাটির প্রদীপ। কিন্তু কালীপুজোয় বা দীপাবলিতে মাটির প্রদীপ লাগে বিপুল পরিমাণে। রাজ্য মাটি সংগঠনের অন্যতম প্রধান মোহনলাল প্রজাপতি বলেন, ‘চিৎপুর, কাশীপুর, ফুলবাগান, কাঁকুরগাছি, বাগমারি, উল্টোডাঙা, কবিরাজবাগান, বাগুইআটি, কসবা, বালিগঞ্জ-সহ নানা এলাকায় বিভিন্ন ভাটিতে তৈরি হচ্ছে মাটির প্রদীপ। নানা সাইজের প্রদীপ তৈরির কাজ চলছে। কয়েক লক্ষ প্রদীপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। কদিনের মধ্যেই সেসব খুচরো ব্যবসায়ীরা পাইকারি ভাটি থেকে এই প্রদীপ কিনে নিয়ে যাবেন।’

শহর থেকে গ্রামবাংলা আধুনিক হলেও ঐতিহ্য ভোলেনি। বরং পুরনো ঐতিহ্যকে বেশি করে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছেন মানুষজন। এখন এলইডি প্রদীপ বাজারে এসেছে। যা অনেকেই ঘর সাজাতে কিনে থাকেন। তারপরও মাটির প্রদীপের ভালরকম চাহিদা রয়েছে। এই বিষয়ে উল্টোডাঙার কবিরাজ বাগানের ভাটিতে দাঁড়িয়ে রাজেশ প্রজাপতি বলেন, ‘বড় প্রদীপের থেকে ছোট প্রদীপের চাহিদাই বেশি। আমরা ছোট প্রদীপই বেশি পরিমাণে তৈরি করছি। কারণ ভূত চর্তুদশী, দীপাবলি, কালীপুজোতে লাগে ছোট প্রদীপ। তাই ছোট প্রদীপের চাহিদা বেশি।’


জেলাতেও আছে মাটির সামগ্রী তৈরির ভাটি। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় কলকাতার নানা ভাটি থেকে তৈরি প্রদীপ যায় পাশ্ববর্তী জেলাতেও। দীপাবলিতে পোড়ামাটির প্রদীপের পাশাপাশি বিক্রি হয়ে থাকে নানা নকশার রঙীন প্রদীপও। তাই এখন শিল্পীদের কাজের চাপ অনেকটাই বেশি। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণের কিছু খুচরো ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছেন নানা নকশার মাটির প্রদীপ। কলকাতায় প্রদীপ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত অচিন্ত্য পালের বক্তব্য, ‘অন্যান্য পুজোর তুলনায় কালীপুজো এখানে বেশি হয়। সর্বত্র হয়ে থাকে মা কালীর আরাধনা। তাই প্রদীপের বাজার ভাল মেলে। আগামী ৮ নভেম্বর কালীপুজো। সুতরাং হাতে বেশি সময় নেই।’