রাজধানীর বুকে আন্দোলন চরমে তুলে নিজেদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে টিয়ার গ্যাস বুক পেতে সহ্য করেছিলেন জেন-জিরা। কিন্তু আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি তাঁরা। নয়াদিল্লির ওই আন্দোলনে ছিলেন বাঁকুড়ার যুবক আবদুল হাফিজ। সেই আন্দোলন শেষ করে গ্রামে ফিরে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের সমর্থনে নিজের এলাকার একটি বেহাল সরকারি স্কুলের ভিডিও তুলেছিলেন আবদুল। আর সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। তারপরই নেমে তাঁর উপর নেমে এল চরম মর্মান্তিক অত্যাচার। ভিডিও পোস্ট করার জেরে হামলার শিকার হন ওই যুবক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নৃশংস এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে আবদুল হাফিজের বয়স্ক বাবার বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাও সময় লাগেনি চাউর হতে। আর তাতেই চাপ বাড়াতে শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি শাসিত সরকার। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার সরাসরি অভিযোগ তুলেছে সিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁরা পদক্ষেপ করবে বলেও জানিয়ে দেয়। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না। উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।
Abdul went to inspect the govt school in Bengal where he once studied. He lost his father after they were attacked by goons (allegedly from BJP) for speaking up about the poor condition of govt schools.
It makes my blood boil that people are being murdered simply for demanding… pic.twitter.com/S9PtFPGIMk
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) August 16, 2026
মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও জেন-জি নিজেদের আবেগ কতটা ধরে রাখতে পারে সেটাও এখন দেখার বিষয়। তবে সিজেপি সূত্রে খবর, বাঁকুড়ার ইন্দাস থানা এলাকার বাসিন্দা তথা ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য আবদুল হাফিজ দিল্লির আন্দোলন শেষ করার পর নিজের এলাকায় ফিরে আসেন। সেখানে তাঁর শৈশবের প্রাথমিক স্কুলের বেহাল দশা দেখে তার ছবি তোলেন। সিজেপির দেশব্যাপী সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই সামাজিক অডিট করা হয়। ওই ভিডিও সামনে আসতেই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং দুষ্কৃতীরা আবদুল হাফিজের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। সেটার প্রতিবাদ করলে হাফিজ ও তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। মারাত্মক জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই তা চাউর করে দেওয়া হয়। যা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও করা হবে। এখানে বিজেপির কোনও যোগ নেই। এরা সবাই দুষ্কৃতী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।’
তাছাড়া এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র নিন্দা করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি লেখেন, ‘ভাল স্কুল গড়ার দাবি তোলার কারণে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। যা রক্ত গরম করার মতো ঘটনা। সিজেপি মৃত যুবকের পরিবারের পাশে আছে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে। সিজেপির একটি প্রতিনিধিদল দ্রুত পশ্চিমবঙ্গ সফর করবে এবং এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবরকম লড়াই চালাবে। এই ধরনের হিংসা এবং হুমকি দিয়ে আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না। আগামীকাল, আমি, বিজয় মাল্লাঙ্গি, অঙ্কিত ভরদ্বাজ, সুধীর সাঙ্গোয়ান-সহ সিজেপি সদস্যরা বাঁকুড়ার করিসুন্দা গ্রামে যাব।’