চোরবাগানের বিপর্যয়ে মৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কথা আগেই জানানো হয়েছিল। গতকালের পর বুধবারও সেই কথা রাখতে স্বজনহারাদের পাশে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজয়া দশমীর দিনও চোরবাগানের ঘটনায় মৃত বরাহনগরের ঘোষ দম্পতির বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পদপিষ্ট হয়ে মারা যান প্রিয়া সমাদ্দার। মৃতার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সেখানেও পৌঁছন। কিন্তু বিজয়া দশমীর দিন চোরবাগান জুড়ে চলছে একটাই চর্চা। দুর্গাপুজোর বিসর্জন দেবে কে? এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ মহাসপ্তমীর রাতের সেই মৃত্যুমিছিলের পর বিসর্জন নিয়ে চাপে পড়েছে চোরবাগান সার্বজনীন। বেশিরভাগ উদ্যোক্তাই পলাতক।
এদিকে বুধবার বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাতে বিসর্জনের সময় কোনও অঘটনা না ঘটে তা সরেজমিনে দেখেন তিনি। তারপর সেখান থেকে একের পর এক মৃতদের বাড়িতে যান তিনি। বিজয়া দশমীর দিন প্রত্যেকটা পুজো মণ্ডপে সিঁদুর খেলা চলছে। ঢাক বাজছে, প্রতিমাকে বরণ করছেন পাড়ার মহিলারা, মা-ঠাকুমার হাত ধরে প্যান্ডেলে হাজির হচ্ছে খুদেরা। তার সঙ্গে চলছে মিষ্টিমুখ। সেখানে দাঁড়িয়ে একেবারেই অন্য ছবি চোরবাগান সার্বজনীনে। এখানে শুধুই নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। শুনশান এলাকা। কেউ যেন পথ ভুলেও পুজোমণ্ডপের দিকে আসছেন না। চাপা আতঙ্ক এখনও কাজ করছে।
অন্যদিকে ১৭ অক্টোবর, প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো প্যান্ডেলে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন একাধিক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেদিন থেকে পাড়ার বাসিন্দারা উঁকি পর্যন্ত দেননি। বাড়ির জানালা খোলা হয়নি কয়েকদিন। পাড়ার মোড়ে, চায়ের দোকানে এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা হলেও পুজোমণ্ডপে পা রাখেননি কেউ। সংবাদমাধ্যমে চোখ রেখে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবু পাড়ার মধ্যেই থাকা ওই পুজোমণ্ডপের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেখা যায়নি কাউকে। এলাকার মহিলারা বলছেন, তাঁদের মন ভাল নেই। প্রত্যেকবার তাঁরা এখানেই প্রতিমা বরণ করে সিঁদুর খেলেন। কিন্তু এই মৃত্যুমিছিলের পর তাঁদের মানসিক অবস্থা আর ভাল নেই।
তাছাড়া পুলিশের আনাগোনা এখানে লেগেই রয়েছে। গোটা পুজোমণ্ডপ ঘিরে রাখা রয়েছে। ফরেনসিক টিম থেকে শুরু করে পুলিশের তদন্তকারী দল এখানে ঘোরাফেরা করেছে। পুলিশ পোস্টিং রয়েছে এখানে। তারপরও কেউ সাহস দেখাননি। মণ্ডপের দিকে এগোচ্ছেন না তাঁরা। কিন্তু সবাই এখন ধন্দে পড়েছেন, প্রতিমা বিসর্জন কারা করবেন? পুলিশ সূত্রে খবর, যতক্ষণ পর্যন্ত না তদন্ত শেষ হচ্ছে, ততক্ষণে প্রতিমাকে কেউ ছুঁতে পারবেন না। এই ঘটনার পর থেকে পুরোহিত শুধু ঘটপুজো করেছেন, প্রতিমাকে ছুঁতে পারেননি। ঘট বিসর্জন এদিন করলেও প্রতিমা বিসর্জনের খবর নেই। এক গৃহবধূ বলেন, ‘কষ্ট হচ্ছে। এত মানুষের প্রাণ চলে গেল। পাশের পাড়ায় গিয়েছে সিঁদুর দিতে মাকে। কিছু তো আর করার নেই।’