সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, অভিষেককে নিশানা

Image: SNS

সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরকে কেন্দ্র করে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্যে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, সেবাশ্রয় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কোনও অভিযুক্তকেই রেয়াত করা হবে না। তাঁর অভিযোগ, এই স্বাস্থ্যশিবিরের আড়ালে একটি বড় দুর্নীতির চক্র কাজ করছে এবং তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।

শুক্রবার ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিষয়টি সরকারের নজরে আনেন। তার পরদিনই বিধানসভায় এই বিষয়ে বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তব্যে শুভেন্দু দাবি করেন, সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে বিষ্ণুপুর থানায় ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তে এমন বহু অভিযোগ সামনে এসেছে যেখানে চিকিৎসার পর রোগীরা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কারও অঙ্গচ্ছেদ করতে হয়েছে, আবার কেউ স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছেন বলেও তাঁর দাবি। বিধানসভায় কয়েকটি ছবি দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনাগুলির সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসার ফল।


আরও পড়ুন:ধর্মতলা কাণ্ডে ৭০ জন চিহ্নিত, ৭টি মামলা, প্রথমবার প্রয়োগ গুন্ডাদমন আইন বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালের আল্ট্রাসোনোগ্রাপি ও এক্স-রে মেশিন অনুমতি ছাড়া বাইরে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদেরও শিবিরে কাজে লাগানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায় অভিযোগগুলির গুরত্ব অত্যন্ত বেশি এবং ইতিমধ্যেই যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এছাড়া শুভেন্দুর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তিনি চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাসের লেখা একটি চিঠির উল্লেখ করে বলেন, সেই অভিযোগও তদন্তেরর আওতায় রয়েছে। এফআইআরের ভিত্তিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও বিধানসভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: অভিষেকের নামে আবার এফআইআর, এবার সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে রিসর্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

তিনি জানান, এই মামলার তদন্তে রাজ্য পুলিশের সিআইডি, এসটিএফ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যৌথভাবে তদন্ত চলছে। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা এই শিবিরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতিটি অভিযোগ পৃথক এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত করা হচ্ছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তাঁর সংসদীয় এলাকা সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির চালু হয়েছিল। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকেও বহু মানুষ আসতেন। পরে নন্দীগ্রামেও এই ধরনের শিবির আয়োজন করা হয়েছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে দুয়ারে ‘সরকার’-এর ধাঁচে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনা, বেআইনিভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ ব্যবহার, এমনকি তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহারেরও অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকের অভিযোগ, তাঁদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রশিক্ষণ বা শংসাপত্র দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এই সমস্ত অভিযোগও তদন্তকারী সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে।