দেশজুড়ে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর দর্শন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলির একটি সর্বভারতীয় বা জাতীয় স্তরের ডিরেক্টরি প্রকাশ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘গান্ধী স্মৃতি ও দর্শন সমিতি’। বিশ্বের নানা দেশেও মহাত্মা গান্ধীর একাধিক স্মৃতি রয়েছে। সেখান থেকেও তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে। আর ‘গান্ধী স্মৃতি ও দর্শন সমিতি’ সংস্থার চেয়ারম্যান তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে খবর। এই ডিরেক্টরিতে জায়গা পেতে চলেছে কলকাতার ঐতিহাসিক বেলেঘাটা গান্ধী আশ্রম এবং তার স্মৃতিবিজড়িত ভবনের।
এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে ‘গান্ধী স্মৃতি ও দর্শন সমিতি’ সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গোয়েল চিঠি লেখেন বেলেঘাটার স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার বিধায়ক হিসাবে এখানে তাঁর যাতায়াত আছে। তার উপর নিজের পাড়া বেলেঘাটা। সুতরাং বেলেঘাটার গান্ধী আশ্রমের সম্পর্কে সব তথ্যই জানা রয়েছে কুণালের। সেখানে বিজয় গোয়েল চিঠিতে বেলেঘাটা গান্ধী ভবনের সাম্প্রতিক পরিকাঠামো, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালনা পর্ষদ এবং তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জমা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই অনুরোধে সাড়া দেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
গান্ধীজির সম্পর্কে যাতে সব তথ্য প্রকাশ পায় তার উদ্যোগ নেন কুণাল ঘোষ। ‘গান্ধী স্মৃতি ও দর্শন সমিতি’ সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গোয়েলের চিঠির জবাবে বিধায়ক কুণাল ঘোষ বেলেঘাটার ওই গান্ধী আশ্রমের এখনকার অবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের তালিকা এবং ভবনটির অতীত ও বর্তমানের একের পর এক বিরল ছবি বিজয় গোয়েলকে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। এই তথ্য ডিরেক্টরি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। যদিও এইসব তথ্য এবং ছবি পাঠিয়ে দিলেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি কুণাল ঘোষ।
তবে শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মদিন। নয়াদিল্লিতে রাজঘাটে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের নানা প্রান্তের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও গান্ধীজয়ন্তী পালন করা হচ্ছে। গান্ধী স্মৃতি সৌধে একটি সর্ব ধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরের গান্ধী ঘাটে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন রাজ্যের শ্রম এবং পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং, রাজ্যপাল আরএন রবি-সহ বিশিষ্ট নেতা-মন্ত্রীরা। গোটা দেশে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে গান্ধীজির চিন্তাভাবনা, ইতিহাস ও গবেষণা নিয়ে কাজ করা সমস্ত সক্রিয় সংস্থাকে একছাতার তলায় নিয়ে আসতেই এই জাতীয় ডিরেক্টরি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার বলে জানা গিয়েছে।