পশ্চিমবঙ্গে এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। সুতরাং ডবল ইঞ্জিনের সুফল এই রাজ্য পাবে সেটাই দস্তুর। একাধিক উন্নয়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। শিল্প আসতে শুরু করেছে। সব সামাজিক প্রকল্প চালু আছে। মেট্রো থেকে শুরু করে লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রে নানা প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই আবহে এবার আরও একটা বড় খবর সামনে এলো। পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। খড়গপুর থেকে ওড়িশার ভদ্রক পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চতুর্থ রেললাইন তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। এই নতুন মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের জেরে খড়গপুর রুটে রেলপথের চাপ যেমন কমবে, তেমন বাড়বে ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা। যাত্রীবাহী ট্রেনের পরিষেবা আরও দ্রুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিক ওড়িশার ভদ্রকে কাজ করতে যান। আবার অনেকে বেড়াতেও যান। ওড়িশার ভদ্রক থেকে বহু মানুষজন পশ্চিমবঙ্গে এসে থাকেন। এই দুটি রাজ্যতেও ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে। এই আবহে খড়গপুর-ভদ্রক ফোর্থ লাইনের অনুমোদন কেন্দ্রীয় সরকার দেওয়ায় দুই রাজ্যের মানুষজনও খুশি। কারণ তাঁদের যাতায়াতে বিরাট সুযোগ মিলবে। আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘এই প্রকল্প শুধু রেল যোগাযোগের পরিকাঠামো শক্তিশালী করবে না, বরং পূর্ব উপকূলীয় রেল করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বড় ভূমিকা নেবে।’
I convey my sincere gratitude to the Union Cabinet chaired by the Hon’ble Prime Minister Shri @narendramodi Ji for approving the crucial Kharagpur–Bhadrak (Ranital) 4th Railway Line project.
Spanning 173 km across West Bengal and Odisha, this major multi-tracking initiative will…— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) August 20, 2026
খড়গপুরকে রেলশহর বলা হয়। কারণ খড়গপুর রুট দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথ। এই রুটে অতিরিক্ত একটি লাইন তৈরি হলে ট্রেন চলাচলের জন্য আরও জায়গা তৈরি হবে। সুতরাং ব্যস্ত করিডরের উপর চাপ কমবে। আর যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি এবং সময়ানুবর্তিতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে। রেলপথে যানজট বা ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যাও অনেকটা কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের বড় সুবিধা মিলবে পণ্য পরিবহণেও। নতুন রেললাইন তৈরি হলে ইস্পাত, কয়লা, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট, গাড়ি, কন্টেনার এবং খাদ্যশস্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আরও বেশি পরিমাণে এবং দ্রুত পরিবহণ করা সম্ভব হবে। এই ফোর্থ লাইন গড়ে ওঠার জেরে স্থানীয় শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং নানা বন্দরও উপকৃত হবে। উন্নত রেল পরিকাঠামোর জেরে কাঁচামাল আনা এবং তৈরি পণ্য দেশের নানা প্রান্তে পাঠানোর খরচ এবং সময় কমবে।
তাছাড়া সড়কপথে পণ্য পরিবহণের চাপও অনেকটা কমবে। রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। খড়গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন প্রকল্প পূর্ব ভারতের যোগাযোগ এবং শিল্প পরিকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুফল পৌঁছবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় অর্থনীতির মোড় ঘুরে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের অনুমোদিত নয়া মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পগুলি রেলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের দরজা খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।