বেশ কিছুদিন বিষয়টি থিতিয়ে ছিল। কোন পথে এগোচ্ছে তদন্ত? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এবার চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড় সামনে এল। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই যে ঘটনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল সেটি হলো, মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড। এই মামলায় এবার বড় সাফল্য পেল সিবিআই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনে গ্রেপ্তার করা হলো আরও দু’জনকে। এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিবিআইকে। যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সুপারি কিলার বলে সিবিআই সূত্রে খবর।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক পরই গত ৬ মে মধ্যমগ্রামের কাছে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। এই হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে শুক্রবার আরও দুই মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভাড়াটে শুটার দিয়ে ‘সুপারি কিলিং’ করার পরিকল্পনা এবং নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সুপারি কিলার। ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম সাগর সোনকার এবং শায়েদ সোনকার। গত জুন মাসে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এই সাগর সোনকার এবং শায়েদ সোনকার দুই ভাই। এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রনাথ রথের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ করত বলে সিবিআই সূত্রে খবর। এরা চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা থেকে শুরু করে তথ্য সরবরাহ করা এবং তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সরাসরি ভাড়াটে খুনি হিসাবে কাজ করেছিল। ধৃতদের সঙ্গে একজনের চুক্তি হয়েছিল বলেও তথ্য হাতে পেয়েছে সিবিআই। ধৃত সাগর সোনকরের সঙ্গে একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের ল্যান্ডলাইন নম্বরে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং কল রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলকাতায় একটি বিশেষ আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।
তাছাড়া আগে যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে সূত্র মিলেছিল। সিবিআই সূত্রে এমন তথ্যই মিলেছিল। গত ৩ জুন উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গোলু সিং নামে এক ব্যক্তিকে। বাকি দু’জনকে উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা হলো-বিকাশ মিশ্রা এবং জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তের জন্য সাতজন অফিসারকে নিয়ে একটি সিট গঠন করা হয়েছিল। এই সিটের নেতৃত্বে ছিলেন পঙ্কজ কুমার সিং। আর দলে আছেন সুভাষ চন্দ্র কুণ্ডু, অনিল কুমার যাদব, বিকাশ পাঠক, অমিত কুমার, কুলদীপ এবং বিবেক শ্রীবাস্তব। সিবিআই সূত্রে খবর, নতুন করে সাগর এবং সাহেব সোনকরের গ্রেপ্তারের পর এই সুপারি কিলিংয়ের পিছনে থাকা বৃহত্তর রাজনৈতিক চক্রান্ত উন্মোচনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন তদন্তকারীরা। কারণ এদেরকে জেরা করে ভাড়াটে শুটারদের কাছে কোথা থেকে টাকা এসেছিল, হাওয়ালা কোনও মাধ্যম কাজ করেছিল কিনা এবং কারা আড়ালে থেকে নির্দেশ দিয়েছিল সেটা জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।