ক্ষতিপূরণের টাকা কীভাবে খরচ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজস্ব-এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । শুধুমাত্র ‘সুরক্ষা’ বা ‘পুনর্বাসন’-এর কারণ দেখিয়ে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীর হাতে পাওয়া ক্ষতিপূরণের টাকার উপর কর্তৃত্ব করা যায় না বলে জানিয়েছে আদালত (Calcutta High Court)।
মানব পাচার ও যৌন অপরাধের শিকার দুই প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার ক্ষতিপূরণের ৭৫ শতাংশ টাকা ১০ বছরের জন্য জাতীয়কৃত ব্যাঙ্কে জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি (SLSA) । সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হলে একক বেঞ্চ তা খারিজ করে দেয় (Calcutta High Court)। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে SLSA-র আবেদনও খারিজ করে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court)।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি! চার জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা
মামলাকারী দুই মহিলা অনিমা বিবি এবং রবিনা বিবি (নাম পরিবর্তিত)। মানব পাচারের শিকার রবিনাকে ৩ লক্ষ টাকা এবং মানব পাচার ও ধর্ষণের ঘটনায় অনিমাকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসএলএসএ (SLSA)-র নির্দেশ ছিল, ক্ষতিপূরণের ৭৫ শতাংশ অর্থ ১০ বছরের জন্য জাতীয়কৃত ব্যাঙ্কের মাসিক আয় প্রকল্পে জমা রাখতে হবে। এমনকি নির্দিষ্ট সময় শেষে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্নবীকরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
আদালত (Calcutta High Court) জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ভিক্টিম কমপেনশন স্কিম, ২০১৭-তে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগী তাঁর ক্ষতিপূরণের টাকা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে এমন বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা এসএলএসএ (SLSA)-কে দেওয়া হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চের (Calcutta High Court) গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যেই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও রয়েছে। শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের অর্থ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে বলেই এসএলএসএ (SLSA) কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর ‘বিগ ব্রাদার’-এর মতো নজরদারি করতে পারে না।
এসএলএসএ (SLSA) -র তরফে অবশ্য যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষতিপূরণের অর্থের অপব্যবহার রোধ এবং ভুক্তভোগীদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির (NLSA) মডেল স্কিমের কথাও আদালতে (Calcutta High Court) তুলে ধরা হয়।
তবে সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court)। আদালত (Calcutta High Court)জানায়, এনএলএসএ (NLSA)-র মডেল স্কিমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আটকে রাখা ক্ষতিপূরণের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এবং ফিক্সড ডিপোজিটের ন্যূনতম সময়সীমা তিন বছর। সেখানে ৭৫ শতাংশ অর্থ ১০ বছরের জন্য আটকে রাখার নির্দেশ অতিরিক্ত বলেই মনে করছে আদালত।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নিপুণ সাকসেনা বনাম কেন্দ্রীয় সরকার মামলায় রাজ্যগুলিকে এনএলএসএ (NLSA) মডেল স্কিম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও সেই মডেল স্কিম গ্রহণ করেনি বা ২০১৭ সালের নিজস্ব ভিক্টিম কমপেনসেশন স্কিম সংশোধন করেনি।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/qE8uMXym_WI?si=vecd1aIv3DV6j0lo” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>
ফলে আদালতের (Calcutta High Court) স্পষ্ট বক্তব্য, আইনে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে এসএলএসএ (SLSA) কোনও প্রাপ্ত বয়স্ক ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের অর্থ দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারে না। একক বেঞ্চের রায়ে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ নেই জানিয়ে এসএলএসএ (SLSA)-এর আবেদন খারিজ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court)।
এই রায়ে মানব পাচার ও যৌন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং মানবিক মর্যাদাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।