‘বেলুন-বন্দুকের স্টল থাকলে বইয়ের নয় কেন?’ সিপিএমের মামলায় পুলিশের রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

দুর্গাপুজোয় সিপিএমের বুকস্টল করা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছিল রাজনৈতিক চাপানউতোর। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং নৈহাটিতে দুর্গাপুজোয় দুটি বুকস্টল করতে চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল সিপিএমের পক্ষ থেকে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই জল গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। এবার এই মামলার শুনানিতে বুধবার অত্যন্ত কড়া মনোভাব দেখাল কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকী আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কাছ থেকে বিশদে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, অবিলম্বে তদন্ত করে পুলিশকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, যশোর রোডে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কারা কারা স্টল করার অনুমতি নিয়েছেন।

কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশে বেশ বেকায়দায় পড়েছে পুলিশ-প্রশাসন। আর এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে উঠলে বিচারপতির পক্ষ থেকে আগেই রাজ্য প্রশাসনের অবস্থান এবং বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেন। বিচারপতি জানতে চান, ‘বেলুন-বন্দুকের স্টল বসতে পারে, বইয়ের স্টল নয় কেন? ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ নীতি চলছে কি? আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে।’ কলকাতা হাইকোর্টের এই জরুরি রিপোর্ট তলব নিয়েই চাপে পড়ে গিয়েছে পুলিশ।

কদিন আগেই এই বুকস্টল করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন লালপার্টির নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, উৎসবের সময় বুকস্টল করতে হলে লিখতে হবে দুর্গাপুজো। শারদোৎসব লিখলে স্টল করতে দেওয়া হবে না। সেটা মেনে না নিয়ে সংঘাতের পথই বেছে নেয় সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। আর বুকস্টল করতে না পেরে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় করা নাড়েন তাঁরা। সোমবার বিচারপতির পরামর্শ ছিল, ‘দুর্গাপুজোয় না হলে কালীপুজোয় বুকস্টল করা যেতে পারে।’ আবেদনকারীরা জানান যে, তাঁরা গত ৫০ বছর ধরে অস্থায়ী বইয়ের স্টল দিয়ে আসছেন। সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতকে জানিয়েছিলেন, ‘উচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে’, এই যুক্তিতে চলতি বছর অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর বুধবার সব দিক বিচার করেই পুলিশের কাছে বিশদে রিপোর্ট তলব করলেন বিচারপতি।


তাছাড়া সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছিল যে, দুর্গাপুজোর সময় অনুমতি না মিললে কালিপুজোর সময়ে ওই স্টল ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে মামলাকারীদের আইনজীবী তৎক্ষণাৎ মামলাটি থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতির আবেদন জানান। পরে মঙ্গলবার উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে বুধবারের শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।