সরকারি পোর্টালে নাম নথিভুক্ত নেই। তাই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও নয়। এই যুক্তিতেই পণ্য পরিবহণের ব্যবসায় যুক্ত একটি সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ খারিজ করেছিল শ্রম দপ্তর। কিন্তু শুধুমাত্র সরকারি খাতায় নাম নথিভুক্ত না থাকায় কোনও সংস্থাকে ‘বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান’-এর সংজ্ঞার বাইরে রাখার যুক্তি হিসেবে মানতে নারাজ কলকাতা হাইকোর্ট। শ্রম দপ্তরের সেই সিদ্ধান্ত খারিজ করে নতুন করে মামলাটির নিষ্পত্তির নির্দেশ দিল আদালত।
মামলাকারী নন্দদুলাল মিশ্রের দায়ের করা মামলায় বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল) স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সরকারি তালিকাভুক্ত থাকা বা না-থাকা দিয়ে একা তার বাণিজ্যিক চরিত্র নির্ধারণ করা যায় না। পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৬৩-র ২(২) ধারায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে জলপথ ও সড়কপথে পরিবহণ পরিষেবাও অন্তর্ভুক্ত। সেখানে সরকারি, বেসরকারি বা অন্য কোনও সংস্থার মধ্যে আলাদা করে বিভাজন করা হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের গত ১৮ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর আবেদন খারিজ করে দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি সরকারি পোর্টালে বা অন্য কোনও পদ্ধতিতে দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত নয়। ফলে সেটি আইনে সংজ্ঞায়িত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আওতায় পড়ে না। তাই ওই আবেদন বিবেচনার এক্তিয়ারও কর্তৃপক্ষের নেই।
এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, কর্তৃপক্ষের নির্দেশের মধ্যেই রয়েছে পরস্পরবিরোধী যুক্তি। একদিকে বলা হয়েছে, নথিপত্র খতিয়ে না দেখে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় নথি বিচার না করেই শুধু তালিকাভুক্ত না থাকার ভিত্তিতে সংস্থাটিকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, কোনও প্রতিষ্ঠানের নথিভুক্ত করানো একটি প্রক্রিয়া। প্রয়োজনীয় নথি ও শর্ত পূরণ করে আবেদন করলে তবেই নিবন্ধন মঞ্জুর হয়। ফলে কোনও সংস্থা নিবন্ধিত নয় বলেই তাকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বলা যাবে না, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো আইনসম্মত নয়।
এরপরেই ১৮ আগস্টের নির্দেশ খারিজ করে মামলাটি নতুন করে বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠায় আদালত। অন্য শ্রম দপ্তরের এক আধিকারিক পি চট্টোপাধ্যায়কে মামলাটি শুনে নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুজোর ছুটি বাদ দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ৬০ দিনের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। তিনি দায়িত্বে না থাকলে সংশ্লিষ্ট শ্রম কমিশনারকে অন্য কোনও আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। তবে আগের নির্দেশদাতা এস ঘোষ ভট্টাচার্যকে দিয়ে আর মামলাটির শুনানি করানো যাবে না।
আরও পড়ুন: আলিপুরের পর নিউটাউনের মিনি জু-তে আসছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার
সরকারি নিবন্ধন না থাকার অজুহাতে কোনও পরিবহণ ব্যবসাকে দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইনের আওতার বাইরে রাখা যাবে না। মামলার পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়ে সেই আইনি প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট।