মমতার বাংলাদেশ মন্তব্য নিয়ে জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট

Calcutta High Court Image: SNS

ধর্মতলার সভায় বক্তব্য রাখার সময় বাংলাদেশ নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। বুধবার সেই জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকী মামলা খারিজ করার পাশাপাশি মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল আদালত। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ ওই জনস্বার্থ মামলা পত্রপাঠ খারিজ করে দেয়। আর তাতেই স্বস্তি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার রাজ্যের পক্ষ থেকে রিপোর্ট দিয়ে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে কোনও আদালত গ্রহণযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়নি। রাজ্যের এই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই ওই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগের বেঞ্চ। বিধানসভা নির্বাচনের পরে গত ২ জুন ধর্মতলার সভা থেকে বাংলাদেশ নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে অনেকের মতে, বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন জনৈক অভ্রতনু সরকার।

অন্যদিকে এই মামলা নিয়ে ১ সেপ্টেম্বর তারিখের শুনানিতে প্রশ্ন তোলে কলকাতা হাইকোর্ট। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, ‘যে যা কিছু বলবেন, তাই শুনতে হবে? এটি কেন জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রাহ্য হবে? আজকাল জনস্বার্থ মামলাকে একটি বিশেষ ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাপস পালের মামলার কথা মনে আছে? সেখানে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।’ ওই মামলা কলকাতা হাইকোর্টের যে ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়েছিল সেখানে ছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। ওই ঘটনাতেও তাপস পালের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল।


তাছাড়া ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্না হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভোলিউশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলতে চাই না। আমার বলার অধিকার নেই। কিন্তু আমি যেটা বলছি, সেই পয়েন্টটা হল, তার পরে তারা মেঘালয় হয়ে বাংলায় চলে আসে। বাংলায় যখন চলে আসে, তখন আমাদের এসটিএফ তাকে ধরেছিল। এটা তাদের ক্রেডিট। তার পরে হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলছেন। এতদিন তো বলিনি। মুখ খুলিনি। এখন অত্যাচারের শেষ সীমায় গিয়েছে বলে বলছি। আমি নাম বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালবাসি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন, এই কথা যাতে বাইরে না বলে। এটা দেশের জন্য। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ সরকার বদলালেও মনে রাখবেন আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয় কথা ভান্ডার, তথ্য ভান্ডার, সত্য ভান্ডার। সম্পদের ভয়ে কর্মীদের ভাসিয়ে দল ছেড়ে যাব না।’