ফেসবুকে জাতিবিদ্বেষী গালিগালাজ, পুলিশের ‘নো ক্লু’ রিপোর্ট খারিজ হাইকোর্টের

Image: AI নির্মিত

ফেসবুকে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে পুলিশের ‘নিল/নো ক্লু’ রিপোর্টে সিলমোহর দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। একই অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে বা তাঁর করা অন্য মামলায় চার্জশিট হয়েছে। শুধু এই কারণ দেখিয়ে পৃথক অভিযোগকে খারিজ করা যায় না বলে জানাল আদালত।

বিচারপতি উদয় কুমার নির্দেশ দিয়েছেন, মামলাটি ফের বিশেষ আদালতে পাঠিয়ে নতুন করে তদন্ত করতে হবে। সাইবার-ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে ফেসবুক পোস্টগুলির ডিজিটাল সূত্র, প্রোফাইল লগ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি-সহ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি ছিল, ফেসবুকে তাঁর জাতি, ধর্ম, ঈশ্বর ও পরিবারকে নিশানা করে অশালীন ও জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়েছিল। সেই অভিযোগে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(r) ও ৩(১)(s) ধারায় মামলা হয়। তদন্তে ১৬৪ ধারায় অভিযোগকারীর বয়ান নেওয়া, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পোস্টের লিঙ্ক ও স্ক্রিনশট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।


পরে ফেসবুক থেকে অভিযুক্ত ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়নি জানিয়ে পুলিশ ‘নো ক্লু’ রিপোর্ট দেয়। বিশেষ আদালতও সেই রিপোর্ট গ্রহণ করে। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট জানায়, একই অভিযোগকারীর অন্য মামলায় চার্জশিট হয়েছে। এটি পৃথক মামলার অভিযোগ খারিজের আইনি ভিত্তি হতে পারে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতিটি অপরাধের অভিযোগকে তার নিজস্ব তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করতে হবে। এর পাশাপাশি, ফেসবুকের মতো ডিজিটাল মাধ্যমেও ‘পাবলিক ভিউ’-এর ধারণা প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে পোস্টের স্ক্রিনশট ও লিঙ্কের মতো প্রাথমিক ডিজিটাল প্রমাণ থাকা অবস্থায় শুধু স্থানীয় সাইবার তদন্তে ব্যবহারকারীর পরিচয় মেলেনি বলে তদন্ত বন্ধ করা যায় না।

আরও পড়ুন: মহালয়াতে দুর্গাপুজো হবে প্রকৃত অর্থে সর্বজনীন, বিদেশে বসে দেখা যাবে ইডেনের অনুষ্ঠান

ফের তদন্তের দায়িত্বে বিশেষ সাইবার সেলের তত্ত্বাবধানে পুলিশকে কাজ করার নির্দেশ দেন বিচারপতি উদয় কুমার। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(৮) ধারায় তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।