সুমিত রায়ের জামিনের আবেদনে আপাতত সাড়া দিল না কলকাতা হাইকোর্ট, কালীপুজো জেলেই

PA Sumit Roy Photo-SNS

জমি ও আর্থিক দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়কে। কিন্তু সেই মামলার অগ্রগতি সেভাবে হচ্ছে না। অথচ দুর্গাপুজো জেলেই কাটাতে হয়েছে তাঁকে। এবার জামিনের আবেদন করেছিলেন সুমিত রায়। কিন্তু এখনই তাতে কলকাতা হাইকোর্ট সাড়া না দেওয়ায় কালীপুজোও জেলে কাটাতে হবে সুমিত রায়কে বলেই খবর। সুমিত রায়ের জামিনের আবেদনে আপাতত সাড়া দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। পুজোর ছুটির পর আদালত খুললে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়ে দিল বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন বেঞ্চ। দুর্গাপুজো, কালীপুজো উপলক্ষ্যে আদালত বন্ধ আছে। অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলার শুনানি হচ্ছে।

শালবনিতে জমি দুর্নীতি কাণ্ডে সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলাতেই আগাম জামিনের আবেদন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সেই আবেদন খারিজ হতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তারপর ওই গ্রেপ্তারি নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যান সুমিত রায়। শুক্রবার তাঁর মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে। আদালত এদিন জানিয়ে দেয়, এখনই সুমিত রায়কে জামিন দেওয়া হবে না। ছুটির পর আদালত খুললে তাঁর আবেদন বিবেচনা করা হবে। সুতরাং এখন দীপাবলির উৎসবে জেলের অন্ধকার কুঠুরিতেই থাকতে হবে সুমিত রায়কে।

দু’দিন আগেই সরিষার একটি পার্টি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সুমিত রায়কে। পুলিশ তাঁর মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। সেই পার্টি অফিস থেকে কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ। যদিও এই ঘটনা নিয়ে একের পর এক তথ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামনে আনতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুমিত রায়কে জেরা করেই এই তথ্য পেয়েছিল পুলিশ বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এদিন কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের মামলা উঠলে তাতে সবুজ সংকেত মেলেনি। পুজোর ছুটির পর ১৬ নভেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট খুলবে। শুক্রবার সুমিত রায়ের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত।


তাছাড়া প্রায় ৫ বছরের পুরনো মামলায় সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তখন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জবাব দেন, এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে তদন্ত। মামলার আওতায় অনেক তথ্য আছে তদন্তকারীদের হাতে। অভিযুক্ত জামিন পেয়ে গেলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরেই বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু জানান, পুজোর ছুটির পর আদালত খুললে নিয়মিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।