সম্প্রতি দেখা গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের উপর হামলা হয়েছে। এই ধরণের নানা ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তাতে পঠনপাঠনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে বলে অভিযোগ। বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারকে। শুধু সিসিটিভি বসালেই চলবে না। বরং সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে বলে স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছে উচ্চ ন্যায়ালয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল। তারই শুনানিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যে পড়ুয়াদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কেমন পদক্ষেপ করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তার রিপোর্ট জমা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে লাগাম টানা হয়েছে। ক্যাম্পাসে নজরদারি বৃদ্ধিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তখনই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শুধু সিসিটিভি বসালে হবে না। ক্যাম্পাসের অন্দরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে যাতে সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনার পরিবেশ গড়ে ওঠে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও ধরনের অরাজকতা সেখানে চলবে না।
শুধু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সুরেন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এসআরএফটিআই-সহ নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সময়ে গোলমাল দেখা দিয়েছে। তাতে স্বাভাবিক পঠনপাঠন বিঘ্নিত হয়েছে। এই সবকিছু দেখা যেমন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তেমন রাজ্য সরকারেরও। সেখানে সেই পরিবেশ যদি না থাকে এবং ক্যাম্পাসের মধ্যে বহিরাগতরা ঢুকে হামলা চালায় তাহলে পরিবেশ এবং নিরাপত্তা মোটেই সঠিক থাকে না বলে মনে করে আদালত। ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় তাই বিশেষ জোর দিতে বলেছে আদালত। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘ডায়মন্ডহারবারে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার নিরাপত্তায় যেন কোনও খামতি না থাকে।’
তাছাড়া রবিবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভকারীরা এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। পড়ুয়াদের মারধরও করা হয় বলেও অভিযোগ। তার আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আরএসএসের ছাত্র শাখা এবিভিপি-র সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল ক্যাম্পাস। এমন অশান্তি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট উদ্বেগপ্রকাশ করেছে। অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ করতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি। আগামী ১০ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।