তথ্য ছাড়াই পরপর জনস্বার্থ মামলা দায়ের কলকাতা হাইকোর্টে, জরিমানার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

Calcutta High Court Photo-SNS

কলকাতা হাইকোর্টে বেশ কিছু জনস্বার্থ মামলা দায়ের হচ্ছে। যার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, উপযুক্ত তথ্য নেই। সেইসব মামলা খারিজও হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাতে দমে না গিয়ে আবার অন্যভাবে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এই প্রবণতা কিছুতেই কমছে না। বরং উত্তরোত্তর বাড়ছে। আর তার জেরে কলকাতা হাইকোর্টের সময় নষ্ট হচ্ছে। ফলে অন্যান্য মামলা শোনা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে।

এবার তথ্য ছাড়া একের পর এক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়াকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বড় জরিমানার হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। এবার বাস্তবে সেটাই কার্যকর করা হল। আক্রোশ থাকায় সাধারণ একটি মামলাকে ‘জনস্বার্থ’ হিসাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছিল প্রধান বিচারপতির সামনে। সেই মামলার সবকিছু খতিয়ে দেখেন তিনি। এমনকী সওয়াল-জবাবও শোনেন। আর তখনই বুঝতে পারেন এটা কোনওভাবেই জনস্বার্থ মামলায় নয়। পুরোটাই সাজানো। সেটি সামনে আসতেই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

তারপর সব তথ্য সরেজমিনে যাচাই করেই এবার মামালকারীকে ৫০ হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলাগুলিতে সওয়াল-জবাব করার ক্ষেত্রে আইনজীবীদেরও সতর্ক করে দেন তিনি বলে আদালত সূত্রে খবর। আদালতের সময় মোটেই সস্তা নয় যে, সাধারণ কোনও মামলাকে জনস্বার্থ মামলা সাজিয়ে তা পেশ করা যাবে। এমন কাজে যেসব আইনজীবী জড়িয়ে পড়ছেন তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে তা বিচারপতিরা কল্পনাই করতে পারেননি। আইনের দরজা সাধারণ মানুষের বিচার প্রার্থনার জন্য। সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে বাকি মামলাগুলির বিচার কেমন করে হবে? উঠছে প্রশ্ন।


তাছাড়া কদিন আগে ওই মামলার শুনানিতে দাবি করা হয়, ব্যক্তিগত জমি থাকা সত্ত্বেও এক মহিলাকে সরকারি জমির পাট্টা দেওয়া হয়। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলাকারীর কাছে জানতে চান অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রমাণ কী আছে? তিনি তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন কিনা সেটাও জানতে চায় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু অভিযোগের সপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারেননি মামলাকারী। তখনই বেঞ্চ সামনে তথ্য উঠে আসে, যে মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর সঙ্গেই জমি সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে মামলাকারীর। আর এই মামলা সেই আক্রোশ থেকে করা হয়েছে। এই তথ্য জানার পরই মামলাকারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে বেঞ্চ। পরে আইনজীবীর অনুরোধে সেটা কমিয়ে ২৫ হাজার করা হয়।