কলকাতা হাইকোর্টে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় মঙ্গলবার কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চাইল আদালত। কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, সরকারের বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য কেবল ‘বন্দেমাতরম’ গানকে জনপ্রিয় করা, কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে গান গাইতে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই অবস্থান হলফনামা আকারে আদালতে পেশ করতে চায় কেন্দ্র।
আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের যুগ্মসচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়াকে কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলিতে ১৯ মে জারি হওয়া নির্দেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এমন নির্দেশ দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা সরকারের কোথায়?’ তাঁর বক্তব্য, সংবিধান গ্রহণের সময় ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবককেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। কেউ স্বেচ্ছায় গান গাইতেই পারেন, কিন্তু তা কখনও বাধ্যতামূলক করা যায় না।
শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে, এখনও পর্যন্ত কেউ বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিচারপতি বলেন, ‘যদি এই সার্কুলারে স্থগিতাদেশ না দেওয়া হয় এবং কেউ প্রভাবিত হন, তিনি তখন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। অনুমানের ভিত্তিতে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।’ আদালতের আরও মন্তব্য, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব প্রার্থনা বা ধর্মীয় অনুশীলনের রীতি রয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ছাত্র আপত্তি জানালে সেই বিষয়টিও বিবেচনার দাবি রাখে। বিচারপতি বলেন, ‘এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল।’
এর জবাবে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, এই ধরনের নির্দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানতে পারে। আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়, যদি কোনও ছাত্র গান গাইতে অস্বীকার করে, তবে তার আইনি সুরক্ষা কী হবে? কেন্দ্রের আইনজীবী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই ধরনের জনস্বার্থ মামলা গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি কেরল হাইকোর্টে একই ধরনের মামলায় কেন্দ্রের অবস্থানের উল্লেখ করে বলেন, ‘কাউকে বাধ্য করা হয়নি, শুধুমাত্র গানটিকে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন: মেসি-কাণ্ডে রহস্যের জট কাটল না, রিপোর্টে দেরি! হাইকোর্টে সময় চাইল পুলিশ
আবেদনকারী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, সংসদেও এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কোনও দেশাত্মবোধক গান বাধ্যতামূলক করা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী হতে পারে। তাঁর প্রশ্ন, ‘১০ বছরের একটি শিশু কীভাবে বলবে যে সে গান গাইবে না?’ কেন্দ্রকে এ বিষয়ে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।