বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্তি হতে চলেছে। তাই একটি ৪১ পাতার বিশেষ বই প্রকাশ করা হয়েছে। এই বইয়ের নাম রাখা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’। প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রয়েছে বইয়ের প্রচ্ছদে। বিনিয়োগ থেকে শুরু করে মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনা, নানা সামাজিক প্রকল্প, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফকে জমি দেওয়া-সহ নানা কাজের খতিয়ান তাতে তুলে ধরা হয়েছে। এই বই নিয়ে প্রত্যেক এলাকায় পৌঁছবেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মানুষকে তাঁরা জানাবেন নতুন সরকারের কাজের কথা। এই আবহে রাজ্য প্রশিক্ষণ শিবিরে দলের বিধায়কদের কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এদিকে রাজ্য সরকারের ১০০ দিনে পশ্চিমবঙ্গে মোট এসেছে কত টাকার বিনিয়োগ এবং উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরা হয়েছে ওই বইতে। দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই তথ্য দিয়ে তৈরি বই নিয়ে নেতা-কর্মীদের সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে নতুন বিজেপি সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে হবে। বিজেপির রাজ্য প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশ, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা, রাজ্য সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ অন্যান্যরা।
অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা এবং নেতাদের সতর্কবার্তা শিবিরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের প্রত্যেককে কড়া বার্তা দেন। শমীক বলেন, ‘বিধায়ক বা জেলা স্তরের কোনও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাঁকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করবে না। এই কথাটা একেবারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমতি নিয়েই বলছেন। এখন বিধায়কদের মধ্যে থেকে ১৫-২০ জন দল ছেড়ে চলে গেলেও সংগঠনে বা দলে তার কোনও প্রভাব পড়বে না। ২০৮ জন বিধায়ক আছে দলে। ২০-২৫ জন চলে গেলে কোনও ক্ষতি হবে না রাজ্য সরকারের। কেউ যদি না শোধরায়, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ থাকলে মন্ত্রী, বিধায়ক কাউকে ছাড়া হবে না।’
তাছাড়া তোলাবাজি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তার উপর যত্রতত্র গেরুয়া রঙ করে দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এবার আরও কড়া বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, খারাপ অভিযোগে কাউকে বরদাস্ত করা হবে না। তাই রাজারহাট এবং দমদমের কথা উল্লেখ করে শমীক ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি, ‘ওই দুই এলাকা থেকেও অনেক খবর আসছে। আজ পর্যন্ত কে, কী করেছেন, তার সব রিপোর্ট আছে।’ দমদমের এক নেত্রী ফেসবুকে মন্ত্রীকে আক্রমণ করে দলবিরোধী কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। ওই নেত্রীকে সাসপেন্ড করার নির্দেশও দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।