‘এটা উপরওয়ালার বিচার’, দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ হতেই মমতাকে কটাক্ষ শমীকের

BJP State President Shamik Bhattacharya Photo-SNS

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির প্রাঙ্গণ তোলপাড় হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই শিবিরকে জমা দিতে হয়েছে নতুন দলের নাম প্রতীক। এখন সবটাই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। এই পদক্ষেপ করার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সামনে রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন রয়েছে। তার আগে এমন ঘটনা ঘটায় বিজেপি অত্যন্ত খুশি। তাই এখন তৃণমূল কংগ্রেস দলের কোনও অস্তিস্ব নেই বলেই জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ।

এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাংসদদের একটা বড় অংশ এনসিপিআই দলে যোগ দেন। বিধায়কদের বিদ্রোহী অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে আলাদা হয়ে যায়। বাকি অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পড়ে থাকে। এবার তাদের দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই অবস্থা দেখে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের তোপ, ‘এটা উপরওয়ালার বিচার। সিঁদুর-আলতায় পদ্মফুলের ছবি থাকলে, সেটা বিক্রি করা যাবে না এমনই ফতোয়া জারি করা হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার নানা জায়গায়। এমনকী ব্যারাকপুর জুড়েও। আর এখন তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব নেই। তৃণমূলের প্রতীক এলো কি গেল, কারও কিছু যায় আসে না। তৃণমূল মৃত, তৃণমূল ঋত।’

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা মেনে নতুন নাম-প্রতীক জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল রাতেই ইমেল করেছেন তিনি। আর শুক্রবার সকালে জমা দিয়েছে ঋতব্রত শিবিরও। রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে এখন এটাই চর্চিত হচ্ছে। সেখানে শমীক ভট্টাচার্যের সরাসরি কটাক্ষ, ‘তৃণমূল নেই। তৃণমূল মৃত, তৃণমূল নির্মূল। তৃণমূলের প্রতীক থাকল কী গেল, তাতে মানুষের কিছু এসে যাবে না। তৃণমূল বলে কোনও পার্টি নেই।’


তাছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস দল এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক থেকে গেলে বিজেপির কাছে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে যেত। এমনকী পরবর্তী ক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারত। সেখানে দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। যদিও তা সাময়িক। কারণ উপনির্বাচন হয়ে গেলে যে কোনও এক পক্ষকে দিতে হবে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক। সুতরাং আপাতত যেটা চাপ সেটা কাটিয়ে ওঠার রাস্তা আছে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। সেখানে এই বিষয়ে কোনও পর্যবেক্ষণ আসতে পারে। সব মিলিয়ে বিজেপির এই উপনির্বাচনে অনেকটা সুবিধা হয়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকে।