পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে এখন শুধুই উন্নয়নের দিশা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বিজেপি সরকারে আসলেও বিরোধীরা জায়গা পাচ্ছে না কাজ করার বলে অভিযোগ উঠেছিল। আবার বিজেপি সরকারে আসতেই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং হিংসার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। যার বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। এবার বিরোধিতার অধিকার নিয়েও একদম সোজাসাপ্টা বার্তা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। বিরোধীদেরও যে জায়গা দেওয়া প্রয়োজন এবার সেটা সরাসরি বলে দিলেন বিজেপির এই রাজ্যসভার সাংসদ।
বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের এক অনুষ্ঠানে গত কয়েক দশকের রাজ্য রাজনীতির ধারা এবং পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের ‘ব্রেন ড্রেন’ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এদিনের অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ এবং রাজনীতির সংকীর্ণ আঙ্গিকের বাইরে চিন্তা করতে না পারার এক বিক্ষিপ্ত এবং অসম্পূর্ণ মেধা আজ আমাদের চরম সর্বনাশের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। রাজনীতির অতিরিক্ত সংকীর্ণতা ও অসহিষ্ণুতা সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সুস্থ ও আদর্শ গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সরকারের সমালোচনা এবং বিরোধিতার অধিকার সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’
শমীকবাবু এই কথা বলছেন রাজনীতিতে সুস্থতা নিয়ে আসতে। কিন্তু বিজেপি জিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিরোধী দলের উপর ডিম মারা, সামাজিকভাবে অপমান করা, গ্রেপ্তার করা এবং আক্রমণ করার মতো ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, নানা জায়গায় গেরুয়া রঙ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই বক্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘যে পশ্চিমবঙ্গ অথবা অবিভক্ত বাংলা একসময় সমগ্র ভারতবর্ষকে পথ প্রদর্শন করেছিল, আজ সমস্ত দিক থেকেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বলয়ে বন্দি হয়ে পশ্চিমবঙ্গ এখন একটি ‘মার্জিনালাইজড’ বা প্রান্তিক রাজ্যে পরিণত হতে বাধ্য হয়েছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনীতির অতিরিক্ত অনুপ্রবেশই মেধার এই চরম অপচয় ও অবনমনের মূল কারণ।’
তাছাড়া শমীকবাবুর এই বক্তব্যকে অনেকেই সতর্কীকরণ হিসাবে দেখছেন। কারণ দলের অনেকেই বিরোধীদের উপর আক্রমণ করছেন। যা রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বেমানান। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা ভারতীয়, তারপর আমরা বাঙালি, মারাঠি বা গুজরাতি। ৪৯ বছরের দীর্ঘ পলিটিক্যাল হেজেমনি বা রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে গড়ে উঠেছে নতুন বিজেপি সরকার। দলীয় প্রতীকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও সরকার যাতে নির্দিষ্ট কোনও দলের দ্বারা চালিত না হয়ে প্রকৃত অর্থে ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার’ হিসেবে কাজ করে, সেই চেষ্টাই চালানো হচ্ছে। সুস্থ গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত রাইট টু ডিসেন্ট বা বিরোধিতার অধিকারকে বাঁচিয়ে রাখা। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।’