বিমল গুরুং-রোশন গিরির সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, দু’পক্ষের মধ্যে কী কথা হলো?

CM Suvendu Adhikari And GJM Leaders Photo-SNS

রাজ্যে পালাবদলের পরে পাহাড়ের উন্নয়নের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। জিটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। পাহাড়ে এবার উন্নয়ন হবে এই বার্তা ইতিমধ্যেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কলকাতায় এলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং। কলকাতায় এসে মন্দিরে পুজোও দেন তিনি। আর বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা।

পাহাড়ের উন্নয়নে বড় বার্তা দিয়েছেন বিমল গুরুং। পাহাড়ে বিজেপির সঙ্গী হিসেবেই রয়েছেন বিমল গুরুংরা। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির প্রচার এবং জনসংযোগের ভার অনেকটাই ছিল গুরুংয়ের উপর। পাহাড়ে বিপুল জয় পায় বিজেপি। কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে উড়েছে গেরুয়া আবির। বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে পদ্মফুল ফোটানোর অন্যতম কারিগর এই বিমল গুরুং। তারপর এদিনের বৈঠক নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ বৈঠকের পর বিমল গুরুং জানান, আগামী ৭ অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে দার্জিলিং যাওয়ার বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও এই নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পাহাড়ে যাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।

বিজেপির সঙ্গে পাহাড়ে উন্নয়নের ডাক আগেই দিয়েছেন বিমল গুরুং। তৃণমূল জমানায় জিটিএ দুর্নীতির ফাইল খোলার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। কদিন আগে পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একমঞ্চে দেখাও গিয়েছিল বিমল গুরুংকে। ওই মঞ্চেই শুভেন্দু-গুরুং একে অপরকে জয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। বিমল গুরুং জানান, গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে সমস্যা সমাধান হতে পারে সেই বিষয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে আগামীদিনে। আর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী সোমবার পাহাড়ে যাচ্ছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। সেখানে পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এবং খতিয়ে দেখা হবে।


তাছাড়া বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে অজয় এডওয়ার্ড এবং অনীত থাপারা এখন কার্যত ঘরবন্দি। পাহাড়ে এখন একচ্ছত্র রাজত্ব করছেন বিমল গুরুং। সেখানে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন মোর্চা নেতৃত্ব। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন গুরুংরা। পাহাড়ের রাজনীতিতে আবার স্বমহিমায় প্রভাব বাড়াচ্ছেন বিমল গুরুংরা। কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুংয়ের বৈঠক এবং তাঁকে শৈলশহরে আমন্ত্রণ জানানো নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক দিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায় বলেই মনে করা হচ্ছে।