‘বই বিক্রির লড়াইয়ে’ হাইকোর্টে বড় ধাক্কা সিপিএমের! একক বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ

CPI(M) Book Stall Photo-SNS

পুজোর বুকস্টল ঘিরে বনগাঁয় সিপিএমের আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সিপিএমকে যশোর রোডে বুকস্টল করার অনুমতি দিয়েছিলেন। শুক্রবার সেই নির্দেশই খারিজ করে দিলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি মহম্মদ সব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, জমি সংক্রান্ত এই মামলা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বিচার্য বিষয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

শুক্রবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, সিঙ্গল বেঞ্চে সিপিএমের তরফে ভুল তথ্য পেশ করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। রাজ্যের বক্তব্য, এটি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার মামলা নয়। সংশ্লিষ্ট জমির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পূর্ত দপ্তরের (পিডব্লিউডি) কাছে বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদনই করা হয়নি।

অন্যদিকে, সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ ডিভিশন বেঞ্চের কাছে আবেদন জানান, অন্তত দলের কার্যালয়ের সামনে চেয়ার-টেবিল পেতে পুজোর দিনগুলিতে বই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু সেই আবেদনেও সায় দেয়নি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। ফলে আপাতত বুকস্টল ঘিরে সিপিএমের স্বস্তি অধরাই রইল।


তবে এই মামলায় পুলিশের জন্যও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বনগাঁয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বুকস্টল বসানোর বৈধ অনুমতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে পুলিশকে। অনুমতি না থাকলে স্টল সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।

সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, জমি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় মামলাটি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বিচার্য এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, তা বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিচার্য বিষয়টির সীমা অতিক্রম করেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটি শুনেছেন বলে মত প্রধান বিচারপতির।

পুজোর মরশুমে বইয়ের স্টল ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এবার পৌঁছেছে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের নির্দেশের টানাপড়েনে। একদিকে সিপিএমের বুকস্টল করার অনুমতি খারিজ। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের স্টলের বৈধতা যাচাইয়ের নির্দেশ। দুই পক্ষের অবস্থান ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হল। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ জানুয়ারি।