নন্দীগ্রামে ভোটের আগে বড় স্বস্তি কংগ্রেসের, জামিন মিলন প্রধানের

Photo: Statesman

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বড় স্বস্তি কংগ্রেসের। দলের প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশে আপাতত নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে তাঁর সামনে আর আইনি বাধা রইল না।

২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের পুরনো মামলা-সহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মিলনকে। জামিনের আবেদনের শুনানিতে মামলাগুলির প্রেক্ষাপটে রাজ্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। ‘আগের সরকার মামলা প্রত্যাহার করেছিল, তা হলে গ্রেপ্তার কেন?’ শুনানিতে এমনই প্রশ্ন ওঠে আদালতে। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির তদন্ত এখনও চলছে।

মিলনের বিরুদ্ধে খুন, সাক্ষীদের প্রভাবিত করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের মতো অভিযোগ-সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে আদালতে জানায় রাজ্য। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, চার্জশিটে মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁকে জামিন দেওয়া হলে সমাজে ‘ভুল বার্তা’ যেতে পারে বলেও আদালতে সওয়াল করে রাজ্য। নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ বন্ধ করার আবেদনও জানানো হয়।


অন্যদিকে, মিলনের আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায় আদালতে জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাঁর সাংবিধানিক অধিকার। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পাঁচটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই মামলাগুলি ফের চালু করে গ্রেপ্তার করা আইনসঙ্গত নয়। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের জামিনের প্রসঙ্গও আদালতে তুলে ধরেন তিনি।

আইনজীবীর দাবি, খেজুরি থানার দুটি মামলায় মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই গ্রেপ্তার আইনবিরোধী বলেও আদালতে দাবি করা হয়। সমস্ত মামলায় জামিন দিয়ে তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান মিলনের আইনজীবী।

শেষ পর্যন্ত ছ’টি মামলাতেই মিলন প্রধানের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন পাবেন তিনি। তবে জামিনের সঙ্গে রয়েছে একাধিক শর্ত। নির্দিষ্ট থানার আধিকারিককে সকাল সাড়ে ৮টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৯টায় ফোন করে তদন্তকারী আধিকারিককে নিজের অবস্থান জানাতে হবে।

আরও পড়ুন: জেলে বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু, ক্ষতিপূরণে আর হয়রানি নয়—উত্তরাধী খুঁজে দ্রুত টাকা দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে মিলনকে। এরপর আরও তিন সপ্তাহের জন্য জামিনের বিষয়ে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হবে। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মিলন প্রধান। গ্রেপ্তারের জেরে তাঁর নির্বাচনী প্রচার নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনে আপাতত সেই জট কাটল। ভোটের আগে আদালতের এই নির্দেশে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস শিবিরেও স্বস্তি ফিরল।