বাড়ি দখল করে তোলাবাজির অভিযোগ বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে, তদন্তে পুলিশ

Former Mayor Krishna Chakraborty Photo-SNS

বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে এবার তোলাবাজির অভিযোগ উঠল। এই নিয়ে থানায় পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলে অভিযোগ। অনাবাসী ভারতীয়র বাড়ির একাংশ জোর করে দখল করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সেটা ছাড়ার কথা বলা হলে কোটি টাকা দাবি করেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ বুধবার সামনে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে শহরে। কৃষ্ণা চক্রবর্তী এখন অবশ্য বিদ্রোহী তৃণমূলের দিকে ঝুঁকেছেন বলে সূত্রের খবর।

এই ঘটনা ঘটলেও ছেড়ে দিতে রাজি নন অনাবাসী ভারতীয় দীপঙ্কর সেনগুপ্ত। তাই বাড়ির একাংশ ফেরত না পাওয়ায় অনাবাসী ভারতীয় দীপঙ্কর সেনগুপ্তর আইনজীবী বিকাশ কোঠারি গত ৩০ জুলাই কৃষ্ণা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিধাননগর পূর্ব থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমন অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দীপঙ্কর সেনগুপ্ত কর্মসূত্রে পতুর্গালে থাকেন। সল্টলেকের সিজে ব্লকে তাঁর একটি বাড়ি আছে। সারাবছর ওই বাড়িটি ফাঁকাই থাকে। দীপঙ্করবাবু সারাবছরে একবার দেশে ফেরেন। ফিরে ওই বাড়িতে থাকেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে কয়েক বছর আগে সিজে ব্লকের বাড়িতে আত্মীয়ের অনুরোধে সৃজনী ভট্টাচার্য মুখোপাধ্যায় নামে এক তরুণীকে থাকতে দেন। শুরুতে সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে দীপঙ্করবাবু দেশে ফিরে ওই তরুণীকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। কারণ তিনি সেখানে স্বাধীনভাবে থাকতে চান। আর এখান থেকেই সংঘাতের শুরু। ওই তরুণী শোনেননি দীপঙ্কর সেনগুপ্তর কথা। বাড়ি ছাড়েননি ওই তরুণী বলে অভিযোগ। বরং যাতে বাড়ির সেই অংশ ছাড়তে না হয় তার জন্য যেখানে ওই তরুণী থাকতেন সেই অংশে নিজে তালা দিয়ে দেন। এমনকী কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে নিজেকে দাবি করে দীপঙ্করবাবুকে রীতিমতো হুমকি দিতে শুরু করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।


তাছাড়া ২০২৫ সালে সল্টলেকের সিজে ব্লকের বাড়িতে তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে যান অনাবাসী ভারতীয় আইনজীবী বিকাশ কোঠারি। তখন ওই তরুণী তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ। ওই তরুণীর নাম সৃজনী। তিনি দীপঙ্করবাবুর বাড়ির আসবাবপত্রও বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ। গত ডিসেম্বর মাসে দীপঙ্কর সেনগুপ্তর আইনজীবী বিকাশ কোঠারিকে সৃজনী ফোন করেন। তখন ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা মহিলা নিজেকে বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলে পরিচয় দেন। তরুণী বাড়ি ছাড়লে এক কোটি টাকা দিতে হবে বলেও ফোনে জানিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আইনজীবীর। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সৃজনীর মধ্যস্থতায় কৃষ্ণা অনুগামীদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। তাতেও কাজ না হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হন দীপঙ্করবাবুর আইনজীবী। যদিও এই বিষয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।