তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় ভাঙড় কলকাতা পুলিশের অধীনে গিয়েছিল। কিন্তু এখন রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে আসার পর থেকে ভাঙড় নিয়ে চর্চা শুরু হয়। লালবাজারের করিডরে কান পাতলে শোনা যায়, ভাঙড় আবার রাজ্য পুলিশের অধীনে ফিরিয়ে আনা হবে। এটা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ভাঙড়কে আবার রাজ্য পুলিশের অধীনে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চর্চা চলছে লালবাজারে বলে সূত্রের খবর। রাজ্য পুলিশের অধীনে আবার ভাঙড় এলে তা শান্তিপূর্ণ থাকবে তো? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভাঙড়কে কেন্দ্র করে এই নয়া গুঞ্জন শুরু হতেই তা নিয়ে পুলিশ মহলে নানা চর্চা চলছে। ভাঙড় বরাবর আলোচিত হয়েছে বা খবরে উঠে এসেছে বোমা-গুলি-অশান্তির জেরে। বারবার নির্বাচনে এবং নির্বাচনের আগে-পরে ব্যাপক অশান্তি এবং রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল ভাঙড়। এমন পরিস্থিতি থেকে ভাঙড়কে শান্তিপূর্ণ করতে কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতা পুলিশের হাত থেকে ভাঙড়কে রাজ্য পুলিশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে একপ্রস্থ কথা হয়েছে। কদিন ধরেই এমন চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। সম্ভাবনা তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। কলকাতা পুলিশের এই ভাঙড় ডিভিশনকে নিয়ে পৃথক ‘পুলিশ জেলা’ গঠন করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এখানেই শেষ নয়, কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে ভাঙড়কে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে বলেও লালবাজারে জোর আলোচনা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনই কলকাতা পুলিশ বা রাজ্য পুলিশের কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। যদি এমনটা হয় তাহলে ভাঙড়ে আরও কড়া নিরাপত্তা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে দেদার বোমা-গুলি চলেছিল। তাই ভাঙড়কে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার জেরেই আবার রাজ্য পুলিশে ফিরে আসার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। ভাঙড় নিয়ে এখন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বদলেছে বলে সূত্রের খবর। এই সম্ভাবনা সত্যি হলে কলকাতা পুলিশ এবং বিধাননগর কমিশনারেটের এলাকা নতুন করে পুর্নবিন্যাস করতে হবে।
২০২৪ সালে ভাঙড়কে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত করার ফলে কলকাতা পুলিশের এলাকা প্রায় দ্বিগুন হয়ে ৫৩০ বর্গ কিমিতে পৌঁছেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় কলকাতা পুলিশে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মীর বড় অভাব দেখা দিয়েছে। ভাঙড় সামাল দিতে গিয়ে কলকাতা পুলিশের আরও কর্মীর প্রয়োজন। তাই ভাঙড়কে রাজ্য পুলিশে ফেরোনার চিন্তাভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।