কিডনি পাচার চক্রের মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো বাংলাদেশের নাগরিক রাসেল আহমেদকে। সল্টলেক সুকান্তনগর এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল মণ্ডলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এভাবেই রাজ্যে কিডনি পাচার চক্রের খোঁজ সামনে এল। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পশ্চিমবঙ্গের কিডনি পাচার চক্রে মিলল বাংলাদেশ যোগ। তার জেরেই গ্রেপ্তার এক পুরনো চাঁই। এই পাচার চক্রের পান্ডা আগেও ধরা পড়েছিল কিডনি পাচার চক্রে।
এই কিডনি পাচার চক্র নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মঙ্গল মণ্ডল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁকে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে কিডনি চুরি করা হয়েছে। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই মিডলম্যান প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। এই প্রভাস মণ্ডলকে দীর্ঘ জেরা করার পর বেশ কিছু তথ্য পায় পুলিশ। সেখানেই উঠে আসে বাংলাদেশের নাগরিকের নাম। তারপর রবিবার বাগুইআটির আটঘড়া ফুলতলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিক রাসেল আহমেদকে। বেঙ্গল এসটিএফ গ্রেপ্তার করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার হাতে রাসেলকে তুলে দেয়।
রাসেল আহমেদকে জেরা করার পর পুলিশ জানতে পারে, বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে ভারতীয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড তৈরি করে ভারতে বসেই এই কাজ চালাচ্ছিল সে। ২০২৪ সালেও কিডনি পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল রাসেল আহমেদকে। দিল্লি পুলিশ রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছিল তখন। তারপরই জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশের নাগরিক রাসেল ভারতে ঢুকে অবৈধভাবে আধার কার্ড, প্যান কার্ড তৈরি করেছিল। অবৈধভাবেই এই রাজ্যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। আর কিডনি পাচার চক্রের জাল ছড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশের নাগরিককে যুক্ত করা হয়েছিল বলেই সূত্রের খবর।
তাছাড়া এই কিডনি পাচার চক্রের চাঁই রাসেল আহমেদ একাধিক মানুষজনকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসত ভারতে। তারপর এখানেই তাদের ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে সেখান থেকে তাদের শরীর থেকে কিডনি চুরি করে নিত বলে অভিযোগ। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বেশ কয়েকজনের নাম ইতিমধ্যেই মিলেছে। তা নিয়ে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে এই কিডনি পাচার চক্র বিস্তৃত রয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে ধৃত রাসেলের কাছ থেকে পেয়েছে রেট চার্ট। একাধিক রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালের কাগজও মিলেছে। যেখানে কোন হাসপাতালে কতগুলি কিডনির প্রয়োজন সেটার উল্লেখ রয়েছে। রবিবারই রাসেল আহমেদকে আদালতে তোলা হয়েছে।