সামনেই দুর্গাপুজো। আর তার প্রাক্কালে সুরাপ্রেমীদের জন্য সুখবর চলে এল। দুর্গাপুজোর সময় একদিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে বলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। এবার সেই চর্চা অনেকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাইছেন। কারণ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিদেশি মদের বাজারে। আর তার জেরে রাজ্যে বেশিরভাগ বটল্ড-ইন-অরিজিন স্কচের দাম প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমতে চলেছে বলে খবর। এই খবর ইতিমধ্যেই চাউর হয়ে গিয়েছে। তাতেই বেশ আমোদ পাচ্ছেন সুরাপ্রেমীরা।
এই ঘটনা যদি ঘটে তাহলে চিভাস, জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল, ডবল ব্ল্যাক, গ্লেন পরিবারের একাধিক ব্র্যান্ড এবং ট্যালিসকারের মতো জনপ্রিয় স্কচ আরও কম দামে মিলতে পারে। এই খবর শোনার পর থেকে অনেকেই নানা মদের দোকানে তা যাচাই করতে যাচ্ছেন। এই ব্র্যান্ডগুলির অধিকাংশই বিশ্বের দুই বড় মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিয়াজিও এবং পেরনো রিকার্ডের অধীনে আছে। সূত্রের খবর, কিছু ব্র্যান্ডের দাম ইতিমধ্যেই কমানো হয়েছে। বাকি ব্র্যান্ডগুলির নতুন দাম আগামী কদিনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে। আর সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন সুরাপ্রেমীরা।
সুরাপ্রেমীরা চাইছেন স্কচের দাম দেখে নিয়েই বাকি পরিকল্পনা করবেন। যদি দাম ১০ শতাংশ কমে যায় তাহলে আগাম তুলে রাখা হবে স্কচ। দুর্গাপুজোর মরশুমে স্কচ নিয়ে বসে পড়তে চাইছেন বহু সুরাপ্রেমীরা। নতুন দামের হিসাবে কিছু বিআইও স্কচের দাম ২,০০০ টাকার নিচে চলে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, চিভাস এবং ব্ল্যাক লেবেল ৩,০০০ টাকার নিচে পাওয়া যেতে পারে বলে সূত্রের খবর। সিঙ্গল মল্টের ক্ষেত্রেও দাম কমার সম্ভাবনা আছে। কয়েকটি ক্যাটেগরিতে সিঙ্গল মল্টের দাম ৪,০০০ টাকার নিচে চলে আসতে পারে। সুতরাং এতদিন যাঁরা বেশি দামের জেরে প্রিমিয়াম বিদেশি মদ পান করতে পারতেন না তাঁদের মধ্যে চাহিদা বাড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
তাছাড়া বটল্ড-ইন-অরিজিন বলতে সেই স্কচকে বোঝায়, যা স্কটল্যান্ডেই বোতলজাত করা হয় এবং তারপর ভারতে আমদানি করা হয়। একটি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের সম্পূর্ণ মদ ব্যবসার মূল্য প্রায় ৩৮,০০০ কোটি টাকা। তার মধ্যে বিয়ার এবং কান্ট্রি স্পিরিটস মিলিয়ে প্রায় ১০,০০০ থেকে ১১,০০০ কোটি টাকা। বাকি অংশ মূলত আইএমএফএল এবং বটল্ড-ইন-অরিজিনের বাজার। এখন রাজ্যে বটল্ড-ইন-অরিজিন স্কচের বাজারের মূল্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। দাম কমে গেলে তা দেদার বিক্রি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর পশ্চিমবঙ্গের মদ ব্যবসা রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব উৎসগুলির মধ্যে একটি। দাম কমলে বিক্রি বাড়বে। রাজস্ব আয়ও বাড়বে।