২০০৭ সালের মামলা। প্রায় ১৭ বছর ধরে তদন্ত-প্রক্রিয়া চলার পর ভোটের মুখে ২০২৬ সালে হঠাৎ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। খেজুরি থানার ৪৫/২০০৭ নম্বর মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার ঘিরে এবার সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতির প্রশ্ন, ২০০৭ সাল থেকে পুলিশ কী করছিল? এতদিন তদন্তকারী আধিকারিকরা কী করছিলেন?”
মামলাটি ২০০৭ সালের হলেও ২০২৬ সালে, নির্বাচনের ঠিক আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারকে ঘিরেই শুনানিতে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য। আদালতের প্রশ্ন, এত পুরনো একটি মামলায় এত বছর পর হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ? বিশেষ করে, আগের শুনানিতে এই মামলার কথা আদালতকে জানানো হয়নি কেন?
মিলন প্রধানের আইনজীবীর অভিযোগ, রাজ্য সরকার আদালতকে সম্পূর্ণ তথ্য না জানিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম-সহ মোট ছ’টি মামলার কথা আদালতে জানানো হয়েছিল। পরে রাজ্যের তরফেই জানানো হয়, মোট মামলা ছিল সাতটি। কিন্তু খেজুরি থানার ৪৫/২০০৭ নম্বর মামলার উল্লেখ করা হয়নি।
শুনানিতে আরও উঠে আসে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রসঙ্গ। রাজ্যের বক্তব্য, তৎকালীন সরকারের তরফে ওই মামলায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে মামলা প্রত্যাহারও করা হয়েছিল। নন্দীগ্রাম মামলায় জেল হেফাজতে ছিলেন মিলন প্রধান। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল নন্দীগ্রাম মামলা ছাড়া অন্য কোনও মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাহলে পরবর্তীতে তাঁকে খেজুরি থানার মামলায় কীভাবে গ্রেপ্তার করা হল, সেই প্রশ্নও তোলা হয় আদালতে।
আইনজীবীর দাবি, ২১ সেপ্টেম্বরের আদালতের নির্দেশের পরও রাজ্য সেই নির্দেশের মর্ম অনুযায়ী পদক্ষেপ করেনি। পুলিশ মিলন প্রধানকে আদালতে হাজির করার পর জানায়, তাঁকে খেজুরি থানার ২০০৭ সালের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজ্যের তরফে অবশ্য জানানো হয়, খেজুরি মামলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সেই ব্যাখ্যাকে ঘিরেও আদালতে প্রশ্ন ওঠে।
সমস্ত বক্তব্য শোনার পর আদালত আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে এই মামলায় কোনও নতুন আইনি পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে মিলন প্রধানের তরফে আবেদন করা হয়েছে, তাঁকে যেন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হয়। আদালতে সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
আরও পড়ুন: বঙ্গে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, দক্ষিণে জারি কমলা সতর্কতা, উত্তরে কী পূর্বাভাস?
পুরনো মামলা, ভোটের ঠিক আগে গ্রেপ্তারি, আগের শুনানিতে মামলার তথ্য প্রকাশ না করার অভিযোগ। এর পাশাপাশি একটি মামলায় হেফাজতে থাকা অবস্থায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তার, সব মিলিয়ে খেজুরি থানার ২০০৭ সালের মামলাকে ঘিরে শুনানি কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।