সিপিআইএম নেতা প্রবীর মাহাতোর নৃশংস খুনের মামলায় ফের কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতার এনআইএ (NIA)-র বিশেষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগের মধ্যেই এবার ১৪ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল আদালত। এনআইএ স্পেশাল (এক্সক্লুসিভ) কোর্ট নম্বর ২-এর বিচারক অজয়েন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য এই নির্দেশ দেন।
এনআইএ সূত্রে খবর, মামলাটি বর্তমানে চার্জ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। শুনানিতে অভিযুক্তদের হাজিরার বিষয়টি ওঠে। অভিযুক্ত ছত্রধর মাহাতো এবং সন্তোষ মাহাতো ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে সিআরপিসি-র ৩১৭ ধারায় আবেদন করেছিলেন। তাঁদের আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করার অনুমতিও দেওয়া হয়।
কিন্তু বাদল মাহাতো, লাখিরাম হেমব্রম, বজিনাথ টুডু, সুন্দর মান্ডি, চন্দ্রশেখর মাহাতো, জয়রাম বেরা ওরফে জয় বেরা ওরফে জয়দেব বেরা, রাজু আদক, ভূদেব মাহাতো, দিলীপ কুমার মাহাতো, শশধর দোলই, অশোক মাহাতো, চিত্তরঞ্জন সামন্ত, অরুণ মাহাতো এবং বিদ্যুৎ সিংহ এই ১৪ জন আদালতে হাজির ছিলেন না। তাঁদের পক্ষ থেকেও কোনও আবেদন বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে মামলাটি ডাকা হলে ১৪ অভিযুক্তের পক্ষে কেউ আদালতে উপস্থিত হননি। তখন এমনআইএ-র বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অরুণ কুমার মাইতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। সেই আবেদন নথিভুক্ত করে আদালত ১৪ জনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
উল্লেখ্য, প্রবীর মাহাতো খুনের তদন্ত প্রথমে রাজ্য পুলিশের হাতে ছিল। রাজ্য পুলিশ চার্জশিটও পেশ করেছিল। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। তদন্ত শেষ করে এনআইএ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে। এর মধ্যে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। ফলে বর্তমানে ১৬ জনের বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা।
এনআইএ-র দাবি, চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিভিন্ন অজুহাতে একাধিক অভিযুক্ত বার বার সময় চেয়ে মামলার গতি শ্লথ করার চেষ্টা করছেন। আদালতে শারীরিক ভাবে হাজির না থাকা এবং কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার ঘটনাতেই এবার ১৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হল।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানির জন্য ধার্য হয়েছে। ওই দিন ছাড়প্রাপ্ত দুই অভিযুক্তের হাজিরা এবং ১৪ জনের বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা কার্যকর করার রিপোর্ট আদালতে পেশ করার কথা। প্রবীর মাহাতো খুনের মতো গুরুতর মামলায় চার্জ গঠনের আগে অভিযুক্তদের বার বার অনুপস্থিতি নিয়ে আদালতের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনজীবী মহলের একাংশ।