যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তি নিয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ। গত ২০ আগস্ট জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়াদের সংঘর্ষের ঘটনায় দ্বিতীয় বার আদালতের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতিবার মামলাটি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এই আবেদনের পরবর্তী শুনানি হবে।
এর আগে ২১ আগস্ট একই ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। তখনই মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছিল আদালত। মামলা তালিকাভুক্ত হলে শুনানি করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। এ দিন আইনজীবী রীতঙ্কর দাস আদালতকে জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করার দাবিতে ২০২৫ সালে তিনি একটি মামলা করেছিলেন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে সেই মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম একাধিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই মামলাটিও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চেই বিচারাধীন। তাই ২০ আগস্টের অশান্তির ঘটনাটিকে ওই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বামেদের পতাকা পোড়ানোর অভিযোগও ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যও যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০ আগস্ট রাত ১২টা ৩৭ মিনিটের পর একদল অজ্ঞাতপরিচয় বহিরাগত জোর করে ক্যাম্পাসে ঢোকে। পরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং হুমকির ঘটনা ঘটে। এরপরই বাম ও এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।
এর ঠিক পরের দিন দুপুরেও সংঘর্ষ চলে। অশান্তির জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে থাকা ঐতিহ্যবাহী লোগোটিও ভেঙে পড়ে। পরে সেটি ফের মেরামত করে লাগানো হয়। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, সংঘর্ষের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে লালবাজার।
আরও পড়ুন: ৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে হাইকোর্টে স্বস্তি মিলল না কালীঘাট তৃণমূলের
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ফরেন্সিক নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। যাদবপুরে অশান্তি অবশ্য এই প্রথম নয়। অতীতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিশ্ববিদ্যালয় সফর ঘিরেও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পর্বের পর কলকাতা হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য অনুষ্ঠান নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে ফের বহিরাগত প্রবেশ ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রশ্নে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ায় আগামী সপ্তাহের শুনানির দিকে নজর রাজনৈতিক ও ছাত্রমহলের। ২০ আগস্টের রাতে অশান্তির পর এবার আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।