আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ২৬ দিন পর অবশেষে নিখোঁজদের মধ্যে ১৮ জনের দেহাংশ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার, ঘটনার ২৭তম দিনে কাঁটাপুকুর মর্গে ভিড় করেন মৃতদের আত্মীয়রা। তবে এখনও ৯টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি, ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে আনন্দপুরে, নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত এলাকায় পাশাপাশি দু’টি গুদামে আগুন লাগে। সেই সময় গুদামের ভিতরে কর্মরত ছিলেন বিভিন্ন জেলার শ্রমিকেরা। অনেকেই বেরোতে না পেরে দগ্ধ হন। প্রায় ৭২ ঘণ্টার তল্লাশির পর পুলিশ একাধিক দেহাংশ উদ্ধার করলেও, সেগুলি দেখে মৃতদের পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের মধ্যে অধিকাংশই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দারাও রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের হাতে দেহাংশ ও মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। এই দুর্ঘটনায় পুত্র ও ভাইকে হারিয়েছেন নিরঞ্জন মণ্ডল। তাঁর ১৮ বছরের ছেলে রামকৃষ্ণ ও ৩৯ বছর বয়সি ভাই গোবিন্দ গুদামে কাজ করতেন। ডিএনএ পরীক্ষায় ছেলের দেহাংশ শনাক্ত হলেও ভাইয়ের দেহাংশ এখনও পাওয়া যায়নি। তবু পরিবার ১৪ মার্চ শ্রাদ্ধের দিন ধার্য করেছে।
Advertisement
এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে অনেক পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকার চেক পৌঁছেছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গুদামের একটি ছিল ওয়াও মোমো সংস্থার, যারা তাদের মৃত তিন কর্মীর পরিবারকে পৃথকভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। তবে মৃতদের পরিচয়ের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের আগেই ক্ষতিপূরণ প্রদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
Advertisement
Advertisement



