তৃণমূলের আমলে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান পুলিশের

Photo: Statesman

তৎকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গারদে ঠাঁই হয়েছে তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতার। এবার ফের এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। তৃণমূল আমলে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। এসআইআরের সময় ভুয়ো বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছে শংসাপত্র। সেই অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ। জেলা থেকে ব্লক, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত, সব স্তরেই তথ্য যাচাই ও নথি শুদ্ধিকরণের কাজ শুরু হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানান মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।

বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর, কোচবিহারের বিভিন্ন পঞ্চায়েত, পুরসভা-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে পুলিশ। দুর্গাপুরেও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। সেইসব জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় রাজ্যজুড়ে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর অভিযোগ উঠেছিল। অনিয়ম করে জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তোলা হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, সেই শংসাপত্রগুলি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। এবার তা নিয়ে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন।

রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েতে অভিযান চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তকরণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। পুরসভা ও পঞ্চায়েতের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও রেকর্ড নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ। সেগুলি থানায় নিয়ে এসে তা খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও নিয়ম বহির্ভূতভাবে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে কি না, কিংবা কোনও ভুয়ো নথির ভিত্তিতে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রয়োজনে আধিকারিকদেরও তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করবে।


Photo: Statesman

এদিন নবান্নে মুখ্যসচিব জানান, জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করে তুলতেই এই উদ্যোগ। অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, পঞ্চায়েত এবং পুর প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করবে। রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা, পুরনিগম ও পঞ্চায়েতে সংরক্ষিত পুরনো জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্টার সংগ্রহ করে দ্রুত স্ক্যান ও ডিজিটাইজ করার কাজও শুরু হয়েছে। ডিজিটাইজেশনের পর নথিগুলি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবা ব্যাহত না হয়।

নবান্নের দাবি, সাম্প্রতিক পরীক্ষামূলক যাচাইয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুয়ো শংসাপত্রের হদিশ মিলেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব বলেন, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের ভিত্তিতেই আধার, পাসপোর্ট, রেশন কার্ড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র তৈরি হয়। তাই এই নথির সত্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থায় স্থায়ী সরকারি কর্মীদের ভূমিকাও আরও জোরদার করা হচ্ছে। কর্পোরেশন, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত এলাকায় দায়িত্ব বণ্টন ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে শীঘ্রই অভিন্ন নির্দেশিকা জারি করবে রাজ্য সরকার। সরকারের আশা, এই উদ্যোগের ফলে ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির প্রবণতা রোধের পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যুর ভুয়ো সার্টিফিকেট এড়াতে নথির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে এবার নতুন নিয়ম চালু করেছে রাজ্য সরকার। মন্ত্রীসভার বৈঠকের পরেই নয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থ এন্ড ডেথ অ্যামেন্ডমেন্ট রুল, ২০২৬ জারি করে গেজেট নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছে।