তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল সেবাশ্রয় শিবির। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ সেবাশ্রয় শিবির চালু করেছিলেন। তাতে বিনামূল্যে নানা এলাকা থেকে মানুষজন আসতেন চিকিৎসা করে সুস্থ হতে। এই নিয়ে যখন সমাজমাধ্যমে সুখ্যাতির ছড়াছড়ি চলত তখন তা উপভোগ করেছেন সাংসদ। এখন রাজ্যে পালাবদলের পরই সেবাশ্রয় নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। কারও অভিযোগ এখানে চিকিৎসা করাতে এসে হারিয়েছেন পা। কারও বাদ গিয়েছে হাত। অভিষেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। শুক্রবার বিধানসভায় উঠল সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে কথা। একের পর এক অভিযোগ করেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন তিনি। শনিবার বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে সেবাশ্রয় শিবির থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসার আড়ালে বিপুল অর্থ তছরুপ, বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে বলপূর্বক চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিনতাই এবং চিকিৎসার চরম গাফিলতিতে রোগীদের পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, কদিন আগে এক মহিলাকে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যাঁর পা বাদ গিয়েছে এখানে চিকিৎসা করিয়ে বলে অভিযোগ। এবার ফলতার বিধায়ক বিধানসভায় অভিযোগ তুললেন, ‘সেবাশ্রয় শিবিরের নামে এলাকার খেলার মাঠ দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রাখা হয়েছে। ওই অস্থায়ী পরিকাঠামো তুলে মাঠটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ২৪ লক্ষ টাকা সরকারি তহবিল থেকে খরচ করতে হবে।’
অন্যদিকে কোভিডের সময় থেকে শুরু করে তারপরে বহুবার সেবাশ্রয় শিবির হয়েছে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে। এমনকী বিধানসভা নির্বাচনের আগে খোদ নন্দীগ্রামে হয়েছিল এই সেবাশ্রয় শিবির। এখান থেকে বহু মানুষকে বাইরে পাঠিয়েও চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল। সেখানে খোদ বিধানসভায় ফলতার বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘কোথাও মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে। কোথাও মাটির তলায় পুঁতে রাখা হয়েছে ওষুধ। চিকিৎসার নামে নানা অপকর্ম করা হয়েছে। রোগীর হাত বাদ গিয়েছে। কোনও রোগীর পা বাদ গিয়েছে। ফলতায় মাঠ দখল করে শিবিরের ফলে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারছে না। ওই প্যান্ডেল রেখে দেওয়ার কারণ ছিল, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের নিয়ে গিয়ে পালিশ করা। আমি এই বিষয়টি বিধানসভার নজরে আনছি। মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।’
তাছাড়া এই অভিযোগ ভরা বিধানসভায় উঠতেই তা নিয়ে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষের নানা বক্তব্যও শোনা যায়। শাসকদলের বিধায়কের এমন অভিযোগ শুনে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘সেবাশ্রয় নিয়ে অত্যন্ত মারাত্মক সব অভিযোগ সামনে এসেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই ইস্যুতে বিধানসভায় সরকার পক্ষের তরফ থেকে বিবৃতি দেবেন।’ পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘এরা টার্গেট করছে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে। যে ব্যক্তি এই সদনের সদস্য নয় তাঁকে টার্গেট করা যায় না। সেবাশ্রয় নিয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে একজন ব্যক্তিকে টার্গেট করা হচ্ছে। তাহলে তাঁকে জবাবী ভাষণ দিতে দেওয়া হোক। তাঁকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানান। সে তো সাংসদ। লোকসভায় আপনাদের লোক আছে। সেখানে প্রশ্ন করুন, যাতে সেখানে উত্তর দিতে পারে। এখানে কেন করা হচ্ছে?’