অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এবার নতুন এফআইআর, সাইবার ক্রাইম থানায় পড়ল অভিযোগ

MP Abhishek Banerjee Photo-SNS

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার নতুন করে দায়ের হলো এফআইআর। সাংসদের একটি মন্তব্য নিয়ে এবার তা করা হলো। এমনিতেই অভিষেকের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি এফআইআর রয়েছে রাজ্যের নানা থানায়। আর অভিযোগ রয়েছে পাহাড় সমান। তাই তিনি কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি বিচারপতি। বরং প্রত্যেকটির বিষয়ে যদি কোনও পদক্ষেপ করতে চায় পুলিশ তখন তা দেখা হবে। এই নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিনও জানিয়ে দিয়েছে উচ্চ ন্যায়ালয়। এই আবহে আরও একটি নতুন এফআইআর করা হয়েছে। যা নিয়ে শুক্রবার জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিকে এই এফআইআরের জেরে আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পড়বেন কিনা সেটা সময়ই বলবে। তবে এবার ২০৩১ সালে সুদ-সহ হিসেব ফেরতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার যে মন্তব্য করেছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ সেটার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হলো। সুতরাং নতুন করে আইনি জট তৈরি হলো বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করেছেন রাজীব সরকার নামে এক যুবক। এমনকী ওই মন্তব্যের ভিডিও জমা দিয়েছেন তিনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আর তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে কদিন আগে আমতলায় একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়। বুলডোজার দিয়ে তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। কারণ সেটি বেআইনি নির্মাণ বলে দাবি প্রশাসনের। পর পর দু’দিন এই পার্টি অফিস ভাঙার কাজ হয়। এই পার্টি অফিসে বসেই রাজনৈতিক কাজকর্ম করতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে জানেন সকলে। সেই পার্টি অফিসের অন্দরে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তা ভেঙে ফেলা হয়। এই পার্টি অফিস ভাঙার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছিলেন, ‘এই বিল্ডিংয়ের প্ল্যান-সহ যাবতীয় বৈধ নথি সব রয়েছে। সেসব আদালতে জমা আছে। মামলা চলছে। সুতরাং বিচারাধীন অবস্থায় এভাবে ভাঙা যায় নাকি? তা সত্ত্বেও স্রেফ ক্ষমতা দেখাতে অনেক কিছু করা হচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।’


তাছাড়া এই পার্টি অফিস ভাঙা নিয়ে সেদিন কড়া প্রতিক্রিয়াও দিয়েছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য প্রশাসনের এই কাজ নিয়ে অভিষেকের মন্তব্য ছিল, ‘যে আইনের যে ধারায় এই সব অত্যাচার করা হচ্ছে সেই আইনের সেই ধারায় আবার তা ফিরিয়েও দেওয়া হবে। এই কথাগুলি যেন মনে রাখে বিজেপি নেতারা। আর যদি ঈশ্বর, সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদে বেঁচে থাকলে ২০৩১ সালে সুদ-সহ সব ফিরিয়ে দেব।’ এই মন্তব্যের জেরেই এফআইআর হয়েছে।