বিধানসভা নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। নতুন সরকার গড়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। তারপরও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আর তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যে মোট আড়াই হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ভোট মিটে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ফেরত পাঠানোও হয়েছিল। তবে কিছু সংখ্যাক কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়ে গিয়েছিল। তবে সেটা নিতান্তই সামান্য। এবার আবার কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে চলেছে বঙ্গে। যদিও সামনে কোনও বড় নির্বাচন নেই।
ভোট পরবর্তী হিংসা যাতে না হয় তার জন্য কিছু সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গে রয়ে গিয়েছে। তার উপর আরও কিছু সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে বলে খবর। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত? পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও মজবুত করতে এবং নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করে তুলতে রাজ্যে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বলে জানা গিয়েছে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের পর পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর রাজ্যজুড়ে মোট ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। এখন পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করতে রাজ্যজুড়ে আরও ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজ্যে দেখা দিয়েছে ডিম থেরাপি। তা নিয়ে রাজ্য সরকার এবং পুলিশের তুমুল সমালোচনা করছেন বিরোধীরা। বিরোধী নেতা-নেত্রীদের উপর আক্রমণ নেমে আসছে। সেটা ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য একটি অংশের দাবি, বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা নিজের এলাকায় ফিরতে পারছেন না। তাঁদের পক্ষ থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা দেওয়া হোক বলে দাবি করা হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদরা এখন এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করছেন। সুতরাং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা প্রয়োজন।
তাছাড়া আরও কোনও বড় নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয় তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। একইসঙ্গে সামনেই হতে চলেছে তিনটি উপনির্বাচন। রেজিনগর, নন্দীগ্রাম এবং বসিরহাট। সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে। কলকাতা পুরসভা, হাওড়া পুরসভা-সহ নানা পুরসভার নির্বাচনও হবে চলতি বছরেই। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নতুন করে পাঠানো কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে থাকছে-সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ), সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)। নতুন এই ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী যুক্ত হলে রাজ্যে মোট কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিমাণ দাঁড়াবে ১০০ কোম্পানিতে।