বাজেট অধিবেশন শেষে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘সই জাল লজ্জাজনক, বিধানসভাকে আরও প্রাণবন্ত করতে হবে’

CM Suvendu Adhikari Photo ANI

বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি লগ্নে বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সংসদীয় সংস্কারের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সংসদীয় পরম্পরার মর্যাদা রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য। শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সব বিধায়কের সহযোগিতায় বিধানসভাকে তিনি আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে চান।

বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কড়া সুরে বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন হলেও ১৩ জন বিধায়কের সই জাল হওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। স্বাধীনতার পর এমন ঘটনা ঘটেনি। এই ধরনের কাজ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে মোটেই শোভনীয় নয়।’

বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে একাধিক সংস্কারের প্রস্তাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অধিবেশন চলাকালীন প্রতি বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তর সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর হবে এবং নিজেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এর পাশাপাশি তিনি নির্দেশ দেন, অধিবেশনে অন্তত সাতজন মন্ত্রীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। অধ্যক্ষের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যদি তারা উপস্থিত না থাকেন সেদিনের জন্য বিধানসভা মুলতবি করে দিতে হবে। বিধায়কদের উপস্থিতির হিসাবও বিধানসভার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার প্রস্তাব দেন তিনি।


মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিধায়কদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার জন্য মন্ত্রীদের কেবল নামফলক লাগিয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তাঁদের নিজ নিজ কক্ষে বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে হবে।’ সেই সঙ্গে বিধায়ক আবাসনের উন্নয়ন, ক্যান্টিনের মানোন্নয়ন, বছরে চারটি অধিবেশন আয়োজন এবং গড়ে ৮০ থেকে ১০০ দিন বিধানসভা চালানোর লক্ষ্যও তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সিআইটি রোডে ধুন্ধুমার, গ্রেপ্তার কুণাল ঘোষ

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হলে সদস্য সংখ্যা বাড়বে। ফলে বর্তমান ঐতিহ্যবাহী ভবনে ৪০০ সদস্যের বসার ব্যবস্থা সম্ভব হবে না। শেষে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা পরিচালনা নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ক্যামেরা যেন ভদ্র আচরণ করা সদস্যদের ওপর বেশি ফোকাস করে। অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নয়।’