ভোটের ফল প্রকাশের পরেই একের পর এক এফআইআর! তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Avishek Banerjee) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার সময়কাল নিয়েই এ বার সরাসরি প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । ৪ মে-র আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছিল কি না, রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজুর কাছে জানতে চান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
আদালতের (Calcutta High Court) প্রশ্নের জবাবে এএসজি জানান, ৪ মে-র আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর ছিল না। সেই উত্তরের পরেই আদালতের (Calcutta High Court) তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, ‘তাহলে সব মামলাই বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের। আগের মামলার বিষয়টি মাথায় রেখেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
আরও পড়ুন: অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২৪ স্কুলছাত্রী, খাবার-জলে দূষণের আশঙ্কা
অভিষেকের (Avishek Banerjee) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১৬টি এফআইআরের তালিকা আদালতে (Calcutta High Court) পেশ করা হয়েছে। তার মধ্যে বিধাননগর সাইবার থানার একটি মামলায় নতুন করে কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই বলে জানায় আদালত। বাকি ১৪টি মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা নিয়ে শুনানি হয়। এএসজি-র যুক্তি ছিল, এফআইআরে যদি কগনিজেবল অফেন্স (Cognizable Offence) -এর উপাদান থাকে, তা হলে শুধুমাত্র এফআইআর খারিজের আবেদনের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া যায় না। অভিষেকের (Avishek Banerjee) আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণের পাল্টা দাবি, সংশ্লিষ্ট এফআইআরগুলিতে অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদানই নেই।
শুনানিতে আদালতের (Calcutta High Court) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ‘মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, তদন্ত চলছে। তাঁকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিলে তদন্তে অসুবিধা কোথায়?’ আদালত (Calcutta High Court) স্পষ্ট করে দেয়, তদন্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্ট আদালতে (Calcutta High Court) জমা দেবে। তবে আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতার-সহ কোনও জোরজবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না।
একটি মামলার অভিযোগকারী অভিজিৎ দাসকে নিয়েও শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। আদালত (Calcutta High Court)জানতে চায়, তিনি কি অভিষেকের (Avishek Banerjee) বিরুদ্ধে নির্বাচনে দু’বার পরাজিত? অভিযোগকারীর আইনজীবীর দাবি, অভিষেক (Avishek Banerjee)অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তাঁর মক্কেল একাধিক বার আক্রান্ত হয়েছেন। অভিষেককে (Avishek Banerjee) সুরক্ষা দেওয়া হলে অভিযোগকারীকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদনও করা হয়।
তখন বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, ‘অভিষেক (Avishek Banerjee) যদি এতটাই প্রভাবশালী হন, তাহলে আমতায় তাঁর অফিস কী ভাবে ভেঙে দেওয়া হল?’ রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও তাঁকে ‘প্রভাবশালী’ বলার যুক্তি কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত (Calcutta High Court)। এখনই অবশ্য এফআইআরগুলি খারিজ করেনি হাইকোর্ট। চূড়ান্ত শুনানির আগে দু’পক্ষকে হলফনামা বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছে।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/GmN8v_OXLOE?si=5VQ-4I5iDJyzpBV6″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>
এই পরিস্থিতিতে আপাতত বড় স্বস্তি অভিষেকের (Avishek Banerjee)। আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশই বহাল রেখে তাঁর সুরক্ষা ৩১ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট(Avishek Banerjee)। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ আগস্ট। অর্থাৎ, তদন্ত চলবে নিজের গতিতে, পুলিশ রিপোর্টও দেবে—কিন্তু ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অভিষেকের (Avishek Banerjee) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ কোনও জোরজবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশেই আপাতত বহাল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের ‘রক্ষাকবচ’।