মিডিয়া ট্রায়াল রুখতে অভিষেকের আবেদন, উপযুক্ত বেঞ্চে আবেদনের পরামর্শ বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের

File Photo

চলমান তদন্তের তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস এবং তাঁকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বন্ধের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আবেদনে এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করল না বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ। আবেদনটি উপযুক্ত বেঞ্চে আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অভিষেকের আইনজীবীর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অগ্রগতি, জিজ্ঞাসাবাদে কী প্রশ্ন করা হয়েছে? তিনি কী উত্তর দিয়েছেন? এমন একাধিক তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থা ও কিছু সংবাদমাধ্যমের মধ্যে তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্যের ‘লিকেজ’ হচ্ছে বলেও আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, এই ধরনের যাচাই-বিহীন, অনুমাননির্ভর ও চাঞ্চল্যকর প্রচার তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও সুনামের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে। এর পাশাপাশি অবাধ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যৎ বিচারের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।


চলতি বছরের ১১ জুন ভবানী ভবনে কথিত স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘সূত্র’-এর উল্লেখ করে তাঁকে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন ও আচরণ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকী ‘২৫টি ব্যাগ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া’র মতো ভিত্তিহীন খবরও প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ অভিষেকের।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিদেশযাত্রা চিকিৎসার কারণে এবং সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি বা স্বাধীনতার ভিত্তিতেই হয়েছিল। সেই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশের প্রতিবেদন নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।

অভিষেকের পক্ষ থেকে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশের কথাও উল্লেখ করা হয়। আবেদনকারীর দাবি, সংবাদমাধ্যমের এই ধারাবাহিক প্রচার কার্যত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর রূপ নিয়েছে। যা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁর সুনাম, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং নির্দোষিতার পূর্বানুমানকে প্রভাবিত করছে।

আরও পড়ুন: পুজোয় রাতভর পরিষেবা, সপ্তমী থেকে নবমী ভোর পর্যন্ত ব্লু-গ্রিনে ছুটবে ট্রেন

তবে শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও প্রশ্ন তোলেন, ‘এতে আদালত কি হস্তক্ষেপ করবে?’ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত বিষয় হলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আবেদনটি খারিজ করা হচ্ছে না বরং উপযুক্ত বেঞ্চে গিয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।