খাস কলকাতায় বাড়িতে মজুত বিপুল নিষিদ্ধ বাজি, যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

A Youth Arrested File Photo

একেবারে মহানগরীর বুকে কালীপুজোর প্রাক্কালে বিপুল বেআইনি বাজি উদ্ধার করল পুলিশ। বড়বাজার থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে প্রায় ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করল পুলিশ। যা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে খাস কলকাতায়। এই ঘটনায় একটি স্বতপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। এবার অবৈধ বাজি বিক্রিতে রাশ টানতে মাঠে নেমেছে কলকাতা পুলিশ, পুরসভা এবং রাজ্য পুলিশ। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে নবান্নে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। বাজি বিক্রি থেকে পোড়ানো পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে কড়া নিয়মের কথা ঘোষণা করা হয। সেখানে এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবকের নাম মহম্মদ তৌফিক। তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কী করে ওই বাজি ওই খালি বাড়িতে এল সেটা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বড়বাজার থানা এলাকায় এনএস রোডের একটি পরিত্যক্ত আবাসনে এই বেআইনি আতশবাজি মজুত করা ছিল। গোপন সূত্রে সেই খবর পায় পুলিশ। তার উপর ভিত্তি করেই অভিযান চালানো হয়। প্যাকেটবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি। এই নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করার পর বড়বাজার থানার এসআই উত্তম কুমার হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুবক মহম্মদ তৌফিককে।

রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা বৃহস্পতিবার নবন্নে বৈঠকের পর জানান, অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া ফানুস বা এয়ার বেলুন ওড়ানো যাবে না। অবৈধ বাজি বিক্রি আটকানো, শব্দবাজি রোখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বঠক হয়। নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলবে বলে এদিনই জানানো হয়। আর তার পরই ধরা পড়ল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি।  প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ, বেআইনি বাজি ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া বাজি বিক্রি করা যাবে না।


তাছাড়া উৎসবের দিনগুলিতেও সচেতন থাকবে প্রশাসন। চলবে পেট্রোলিং। প্রত্যেক বছরের মতো এই বছরও বাজি বাজারে নজর রাখবে কলকাতা পুরসভা। একাধিক উপায়ে অবৈধ বাজি চিহ্নিত করা হবে, ধরা পড়লে সব বাজেয়াপ্ত করা হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি বা বিক্রি করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ে বাজি পোড়াতে হবে বলে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। আর রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, নবান্নে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা হচ্ছে। সেখানে যে কোনও সময় অভিযোগ জমা করা যাবে। অভিযোগ মিললেই পদক্ষেপ করবে পুলিশ। হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হবে ২-৩ দিনের মধ্যে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।