‘মোদী-আদানির বন্ধুত্বে ভারত লুঠ!’ এমনই শিরোনামের একটি ভিডিও ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। আদানি গোষ্ঠীর মানহানির অভিযোগে ভিডিওটির প্রচার বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছিল আদালতে। সোমবার সেই মামলায় ভিডিওটি সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে আপাতত সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি আর্যক দত্ত।
আদালতের নির্দেশ, এই আদেশের পর যে প্ল্যাটফর্মেই ভিডিওটি আপলোড করা হয়ে থাকুক, তা সরিয়ে ফেলতে হবে। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে। দীর্ঘ শুনানির জন্য মামলাটি রাখা হয়েছে।
আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের অভিযোগ, ভিডিওটিতে সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। ইউটিউব, এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি সংস্থাটির। ভিডিওটির নির্মাতা সাবির ভাটিয়া-সহ একাধিক ব্যক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে মামলায় পক্ষ করা হয়েছে।
শুনানিতে আদানিদের আইনজীবী অনির্বাণ রায়ের বক্তব্য, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি নয় বরং পরিকল্পিতভাবে নির্মিত। তাঁর অভিযোগ, দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য তৈরি করতে ভিডিওতে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ এবং বক্তব্য কৌশলে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্ক, গুজরাতে জমি পাওয়া, কয়লা খনির বরাত এবং মুম্বই বিমানবন্দরের দায়িত্ব পাওয়ার মতো একাধিক বিষয় তুলে ধরে সংস্থাটিকে বেআইনি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর আরও অভিযোগ, আদানি গোষ্ঠীর বিপুল সম্পত্তি বেআইনিভাবে অর্জিত হয়েছে। এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে ভিডিওতে। মুন্দ্রা বন্দরে মাদক পাচার এবং লস্কর-সহ জঙ্গি সংগঠনের যোগের মতো গুরুতর বিষয়ও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বলে আদালতে জানান তিনি। হিন্ডেনবার্গের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনেও ভিডিওতে সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি আদানিদের।
বিচারপতি দত্ত জানতে চান, ভিডিওটি কি এআই-নির্মিত? এর জবাবে আদানিদের আইনজীবী জানান, এটি এআই দিয়ে তৈরি নয়। ভিডিওটির নির্মাতা নিজেই তার দায় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিচারপতি মন্তব্য করেন, নির্মাতা অবশ্য দাবি করেছেন তিনি একটি গল্প বলছেন। পাল্টা আদানিদের আইনজীবীর বক্তব্য, মিথ্যা গল্পের আড়ালে সংস্থাকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে।
আইনজীবীর দাবি, ভিডিওটি এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরাও মতামত দিচ্ছেন। একটি প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটির দর্শকসংখ্যা ১ লক্ষ ৮৪ হাজারে পৌঁছেছে বলেও আদালতে জানান তিনি।
অন্যদিকে, গুগলের আইনজীবী প্রজ্ঞা জৈন মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা এবং কলকাতা হাইকোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে আদালত নির্দেশ দিলে তাঁদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আদানি গোষ্ঠীর দাবি, সরকারি নির্দেশে ভারতে ভিডিওটির প্রচার বন্ধ করা হলেও অন্য অ্যাকাউন্ট ও চ্যানেলের মাধ্যমে সেটি ফের আপলোড করে ছড়ানো হচ্ছে। সেই প্রচার বন্ধ করতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সংস্থা। তবে ভিডিওতে তোলা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আদালত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে, এমন নয়। আপাতত ভিডিও সরানোর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সব পক্ষের বক্তব্য ও হলফনামা বিবেচিত হবে।