এবার ‘রেভ পার্টি’তে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল এক বিত্তশালী পরিবারের নাবালকের বিরুদ্ধে। ওই ‘রেভ পার্টি’তে ৯জন নাবালক-নাবালিকা উপস্থিত ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সেখানে এক কিশোরীকে মাদক খাইয়ে দেদার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার জেরেই সরগরম হয়ে উঠেছে পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার মুকুন্দপুর। এই ধর্ষণের ঘটনায় পকসো এবং ধর্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিত্তশালী পরিবারের ওই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শনিবার তা চর্চার কেন্দ্রে চলে আসে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারিণী একই ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের পড়াশোনা করে। তবে ওই দু’জন ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন ‘পরিচিত বন্ধু’কে সঙ্গে নিয়েই একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেই এক বন্ধুর প্রস্তাবে শুরু হয় ‘রেভ পার্টি’। গ্রুপে থাকা দুই নাবালিকা আসে কারণ তাদের ‘বয়ফ্রেন্ড’রা সেখানে আসছে বলে। ১৮ জুলাই এদের মধ্যে এক বন্ধু অনলাইনে মুকুন্দপুরে একটি ফ্ল্যাট সারাদিনের জন্য ভাড়া করে। দুপুর থেকে সেখানে হাজির হতে শুরু করে সকলে। রেভ পার্টিতে যোগ দেয় সাত নাবালক এবং দুই নাবালিকা। আর অনলাইনেই অর্ডার দেওয়া হয় মদ ও মাদক। কোল্ড ড্রিঙ্কের মধ্যে মদ মিশিয়ে সকলে পান করে। তার সঙ্গে চলে মাদক সেবন এবং নাচগান।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, অতিরিক্ত মদ-মাদকের নেশায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে নির্যাতিতা। তখন তাকে তার বয়ফ্রেন্ড সেখান থেকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। তারপর চারজন একটি অ্যাপ ক্যাবে ওঠে। দু’জন নেমে যায় রাসবিহারীতে। গাড়িতে থাকা নাবালিকা ও তার বয়ফ্রেন্ড যায় একটি পাবে। পাবে ওই কিশোরী এবং তার বয়ফ্রেন্ড কয়েক ঘণ্টা পর আবার ফেরে মুকুন্দপুরের রেভ পার্টিতে। তারপর আবার ওই কিশোরীকে জোর করে মদ ও মাদক খাওয়ানো হয়। তার জেরে সে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। রাত ৮টা নাগাদ তাকে ধর্ষণ করা হয়। এমনকী সেই আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও তুলে রাখা হয়। যাতে থানা পর্যন্ত বিষয়টি না পৌঁছয়। পরে কিশোরী স্বাভাবিক হলে অ্যাপ ক্যাব ধরে ফিরে যায় গল্ফগ্রিনের বাড়িতে।
কেমন করে সামনে আসে ঘটনা? ধর্ষণের ঘটনার পর তলপেটে প্রবল ব্যথা-যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে ওই কিশোরী। তখন বাড়ির লোকজন জানতে চান, কী হয়েছে? তখন রেভ পার্টিতে ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলে ওই কিশোরী। এই ঘটনার কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা গল্ফগ্রিন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনা পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকায় হওয়ায় জিরো এফআইআর করে তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে পূর্ব যাদবপুর থানা মামলা দায়ের করে। সেখানেই নাবালিকা দাবি করেছে, অভিযুক্ত ওই নাবালকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল। বড়লোক পরিবারের সন্তান। সেই তাকে ধর্ষণ করেছে। তারপরই তাকে আটক করে পুলিশ। পার্টিতে উপস্থিত প্রত্যেকের কাছেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান তদন্তকারী অফিসাররা। তাতে উঠে এসেছে এই গ্রুপের রেভ পার্টি প্রথম নয়। আগেও হয়েছে।