বেসরকারি স্কুলের পর এবার সরকারি স্কুলে সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটল। তাও আবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্রে। সুতরাং ঘটনা নিয়ে জোর আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। খাস কলকাতার ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী মিত্র ইনস্টিটিউশনের সকালের বিভাগের প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে সাপে কামড় দিয়েছে বলেই দাবি পরিবারের। ওই খুদে পড়ুয়া এখন এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। সোমবার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রাথমিক বিভাগে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রকে সাপে কামড়েছে। দৃপ্ত পাল নামে ওই পড়ুয়ার বাড়ি টালিগঞ্জ এলাকায়। এদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ টিফিন বিরতি চলার সময় ওই পড়ুয়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় বলে পরিবারের দাবি।
এই ঘটনার পর স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত ওই ছাত্রকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ সাপের কামড়ের খবর পেয়ে এক মুহূর্ত সময়ও নষ্ট করেনি। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় শিশুর বাড়িতে এবং শিশুকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শিশুর শরীরে বিষ আছে কিনা সেটা জানতে রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। শিশুর মা জানান, আপাতত দৃপ্তর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই তার শরীরে বিষ আছে কিনা সেটা জানা যাবে। এই ঘটনার পরই তৎপর হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বনদপ্তরের লোকজনকে খবর দেয়।
মিত্র ইনস্টিটিউশন সূত্রে খবর, স্কুলের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলেই ক্লাস হয় প্রাথমিক পড়ুয়াদের। কিন্তু টিফিন বিরতিতে ছোটরা একতলায় নেমে খেলাধুলা করে থাকে। এদিনও তা হয়। তখনই দৃপ্তের ডান হাতে সাপ কামড়ায় বলে জানা যাচ্ছে। সাপটি ছাত্রকে কাছে পেয়ে গায়ে উঠে থাকতে পারে। একতলার ১৩, ১৪ অথবা ১৫ নম্বর ঘরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত স্কুল চত্বরে সাপটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রধানশিক্ষিকা সোমা দাস জানান, পাশের ১৬ নম্বর ঘরটি বন্ধ থাকে। সেটিও খুলে দেখা হচ্ছে।
তাছাড়া গত মঙ্গলবার কলকাতার খ্যাতনামা বেসরকারি স্কুলের শৌচালয়ে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া সাপের কামড় খায়। আনন্দপুর এলাকার ওই বেসরকারি স্কুলছাত্রী সর্পদষ্ট হয়। তার জেরে ওই স্কুলকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্কুলশিক্ষা দপ্তর। এবার সরকারপোষিত স্কুলে একই ঘটনা ঘটল। উল্লেখ্য, ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে পড়তেন ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।