এবার প্রতারণা করার ক্ষেত্রে নতুন ফাঁদ পাতল প্রতারকরা। আর সেই ফাঁদে পা দিতেই গায়েব হয়ে গেল লাখ লাখ টাকা। এমন প্রতারণার শিকার হয়ে এক ব্যবসায়ী রাজ্য ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। ওই ব্যবসায়ী বিস্তারিত জানিয়েছেন, কেমন করে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। গোটা ঘটনা শুনে চোখ কপালে উঠেছে ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর অফিসারদের। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে, এটা নতুন ফাঁদ প্রতারকদের। আগে একাধিক ফাঁদ পেতেছিল তারা। সবই ধরা পড়ে যাওয়ায় এবং মানুষ সচেতন হয়ে পড়ায় নতুন ফাঁদ পেতেছে প্রতারকরা। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় সবটা জানিয়েছেন ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর অফিসাররা। তার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন ফাঁদ হিসাবে প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপের ডিপিতে ভুয়ো ছবি ব্যবহার করছে। তা দেখে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আর তখনই ফাঁদে ফেলে সাফ করে দেওয়া হচ্ছে ব্যাঙ্ক। এই নয়া ফাঁদ ব্যবহার করেই ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার জালিয়াতরা। এই জালিয়াতির শিকার হয়ে রাজ্য ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কাছে অভিযোগ জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় ই-জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে শেক্সপিয়র সরণি থানা এই জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছে। তারপর শুরু হয়েছে প্রতারণার তদন্ত। কেমন করে ভুয়ো ডিপি ব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, আনন্দপুরের একটি অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ীর অফিস রয়েছে শেক্সপিয়ার সরণি থানা এলাকাতে। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সাইবার জালিয়াতরা একটি নতুন নম্বর থেকে তাঁদের অফিসের এক কর্মীকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠায়। ওই হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্টে ছিল ওই ব্যবসায়ীর ছবি। সেই ছবি আসল না নকল সেটার পার্থক্য বুঝতে পারেননি ওই কর্মী। তার ফলে ওই কর্মচারী জালিয়াতদের পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজকেই তাঁর মালিকের মেসেজ বলে ধরে নেন। খুব সহজে সেটা বিশ্বাসও করে নেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা ওই ব্যক্তিকে তাঁদের সংস্থার বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে পাঠাতে নির্দেশ দেয়। ওই কর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ওই টাকা পাঠানোর অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। কর্মচারী মালিকের মেসেজকে নির্দেশ বলে মনে করেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেয়।
আর এভাবেই গোটা প্রতারণা সংগঠিত করা হয়েছিল। টাকা পাঠানোর পরই ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ তদন্তে নেমে তা জানতে পেরেছে। ওই কর্মীও পরে বুঝতে পারেন তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এই বিষয়টি ওই কর্মী তাঁর মালিককে জানালে তিনি অভিযোগ করেন রাজ্য ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কাছে। তারপরে বিষয়টি শেক্সপিয়ার সরণি থানার কাছে আসে। শুরু হয় তদন্ত। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই টাকা কেরালার কোচিনের একটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। ওই ব্যাঙ্কের সঙ্গে এখন তদন্তকারী অফিসাররা যোগাযোগ করছেন। প্রতারকদের শনাক্ত করার চেষ্টাও হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।