যাত্রীদের আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। শুরু হতে চলেছে ‘যাত্রী সেবা অভিযান ২০২৬’। এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলবে। বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিশেষ অভিযানের কথা জানালেন বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিং।
এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল যাত্রীরা যাতে আরও নিরাপদ, আরামদায়ক ও চিন্তামুক্তভাবে যাতায়াত করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই ২৪ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন পরিষেবা খতিয়ে দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযানের ২৪ দিনে প্রতিদিন একটি করে বিশেষ বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা, পার্কিং ও যাতায়াতের সুবিধা, বসার জায়গা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রী ও প্রবীণদের সুবিধা এবং যাত্রীদের জন্য সঠিক তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা। এছাড়াও লাগেজ ঠিকভাবে পৌঁছনো, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাত্রীদের সহযোগিতা করা, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং ডিজিটাল সুবিধার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নারী, শিশু ও পরিবারের জন্য পরিষেবা যাতে আরও উন্নত হয়। এর পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ ও মতামত শোনা, স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা ও জরুরি চিকিৎসার প্রস্তুতিও এই অভিযানের অংশ। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ স্বচ্ছতা কর্মসূচি নেওয়া হবে। ৩ অক্টোবর বিমানবন্দরে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
৬ অক্টোবর কর্মীদের ভালো ব্যবহার ও হাসিমুখে পরিষেবা দেওয়ার উপরে জোর দেওয়া হবে। ৭ অক্টোবর প্রথমবার বিমানযাত্রা করা যাত্রী এবং ইউডিএএন (UDAN) প্রকল্পের যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
অভিযানের শেষ দিকে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পরিষেবা ও সুবিধা পর্যালোচনা করা হবে। ১০ অক্টোবর পুরো অভিযানের রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। ভালো কাজের জন্য কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই কর্মসূচি সমাপ্তি হবে।
যাত্রীদের মতামত নেওয়া, পরিষেবার মান পরীক্ষা করা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে এই অভিযান চালানো হবে। এএআই-এর লক্ষ্য কলকাতা বিমানবন্দরকে আরও পরিষ্কার, নিরাপদ ও যাত্রীদের সুবিধার্থে উন্নত করে তোলার লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবে কলকাতা বিমানবন্দর।
এদিন বিক্রম সিং আরও জানিয়েছেন, বিমান পরিষেবা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সার্বিক উন্নয়ন এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও যাত্রী নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও সৌন্দর্য্য এবং বসার জায়গার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রম সিং। কলকাতা বিমানবন্দর নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। ধাপে ধাপে সেই প্রকল্পকে বাস্তবে রূপান্তর করা হল।
অন্যদিকে, বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে যে অপরাধমূলক কাজকর্মের নজির কয়েকদিনের সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে সেই প্রসঙ্গে অধিকর্তা জানান, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো এবং সিকিউরিটি কন্ট্রোলকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সংগঠিত অপরাধ যাতে না হয় তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রম সিং।