৫০ বছরের প্রার্থনা থমকে বিমানবন্দরের মসজিদে, অধিকার বনাম নিরাপত্তার টানাপোড়েন আদালতে

Photo: ৫০ বছরের প্রার্থনা থমকে বিমানবন্দরের মসজিদে (AI)

প্রায় পাঁচ দশক ধরে যেখানে প্রার্থনার ব্যবস্থা ছিল, সেখানে আচমকাই থমকে গিয়েছে ধর্মচর্চা। দমদম বিমানবন্দরের ভিতরে থাকা একটি মসজিদে ফের প্রার্থনার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রার্থনার অধিকার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া মানবিক ও সাংবিধানিক, দুই দিক থেকেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর।

মামলাকারীদের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাকরা গ্রামের জমি অধিগ্রহণ করে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যমগ্রামে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। ওই এলাকার একটি মসজিদে দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে প্রার্থনার ব্যবস্থা চলে আসছিল। কিন্তু গত ১১ জুলাই থেকে সেখানে প্রার্থনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।

আইনজীবীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট জমি এখনও সম্পূর্ণ ভাবে অধিগ্রহণ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় আচরণ একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অবশ্য প্রশ্ন তোলে, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা ইনজাংশনের জন্য কেন নিম্ন আদালতে যাওয়া হচ্ছে না। জবাবে মামলাকারীদের আইনজীবী বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশের রাস্তা পরিবর্তন করা হলে বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট পথ করে দেওয়া হলে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু প্রার্থনাই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।’


তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে নিরাপত্তা মেনে নিয়ন্ত্রিত ভাবে মসজিদে প্রবেশের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারা প্রবেশ করবেন, তার তালিকা তৈরি করে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।’ অন্যদিকে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী গোপাল মুখোপাধ্যায় আদালতে নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, বিমানবন্দরের বিভিন্ন দিক দিয়ে মানুষ প্রবেশ করে। মসজিদে প্রার্থনার পাশাপাশি সেখানে বৈঠকও হয় বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

এমনকী রানওয়েতে মানুষ ঢুকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে আদালতে জানানো হয়। এসব বিষয় বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। কেন্দ্রের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদীও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি আদালতে ১৯৯৩ সালের লালকেল্লার ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

শুনানিতে বিচারপতিও বিমানবন্দর নিরাপত্তার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তার ফাঁকফোকর এখন শুধু কোনও একটি দেশের সমস্যা নয়, গোটা বিশ্বের ক্ষেত্রেই তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাম্প্রতিক একটি দুবাইগামী বিমানের ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে শুনানিতে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আদালতকে অনুরোধ করেন, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ শোনার আগে যেন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া না হয়।

আরও পড়ুন: বুধের পর বৃহস্পতিতেও ভোগান্তি, মালদহ ডিভিশনে বাতিল ২২টি ট্রেন

একদিকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় আচরণ ও মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি স্থান। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা। দুইয়ের মাঝখানেই এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এই মামলা। প্রার্থনার দরজা কি নিরাপত্তার শর্ত মেনে ফের খোলা সম্ভব? নাকি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থেই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে? উত্তর মিলবে পরবর্তী শুনানিতে। আগামী ৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি।